জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন বলেছেন, কন্যাশিশুকে মানব সম্পদে পরিণত করার জন্য বাল্যবিবাহ বন্ধ করা প্রয়োজন। বর্তমানে বিদ্যমান আইনে বিশেষ ব্যবস্থায় ১৮ বছরের কম বয়সী মেয়েদের বিয়ের যে বিধান রয়েছে তা থাকা উচিত না। কেননা আইনে ফাঁক থাকলে সে সুযোগ নিয়ে বাল্যবিবাহ অব্যাহত থাকবে। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে ব্যাপক সচেতনতা ও সামাজিক জাগরণ গড়ে তোলার আহবান জানান তিনি।

শুক্রবার এফডিসিতে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির আয়োজনে ‘সম্প্রতি করোনার কারনেই বাল্যবিবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে’ শীর্ষক ছায়া সংসদে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।

তিনি বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার সম্পর্কে কিশোর ও তরুণদের বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন। ডিজিটাল প্রযুক্তির অপব্যবহারের কারণে সামাজে বিপর্যয় নেমে আসছে। বিশেষত ফেসবুকের অপব্যবহারের কারনে সমাজে অস্থিতিশীলতা তৈরি হচ্ছে। তাই সোশ্যাল মিডিয়ার দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিতকরণে পরিবার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে।


সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, করোনাকালে ১৩ শতাংশ বাল্যবিবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা গত ২৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। বাংলাদেশে বর্তমানে বাল্যবিবাহের হার ৫৯ শতাংশ। সারাবিশ্বে বাল্যবিবাহে আমরা চতুর্থ। সরকারি হিসেব অনুযায়ী গত বছর গড়ে মাসে ৫৮ টি বাল্যবিবাহ হয়েছে। তাই বাল্যবিবাহ নির্মূলে যতটুকু অগ্রগতি হয়েছিল, করোনার কারণে তা আবার পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ি ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী বিবাহিত কিশোরীদের ৪২ দশমিক ৮ শতাংশ শারীরিক বা যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। যাদের মধ্যে ৩১ শতাংশ কিশোরিই গর্ভবতী হন। যারা শারিরিক ও মানসিক ভাবে সন্তান জন্মদানের জন্য প্রস্তুত নয়। ৪৩ শতাংশ কিশোরী মা গর্ভজনিত সমস্যার কারণে মৃত্যুবরণ করছে। স্থানীয় প্রশাসন করোনাকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে তেমন নজর দিতে পারেনি। তাই করোনাকালে বাল্যবিবাহ বেড়েছে।

বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি ৮ দফা সুপারিশ করে। সুপারিশগুলি হলো- ১.বাল্যবিবাহ রোধে দরিদ্র পরিবারের মেয়েদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ভাতা’র ব্যবস্থা ও একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে আয়ের পথ তৈরি করে দেয়া ২. চাইল্ড ম্যারেজ রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্ট রিভিউ করে যুগোপযোগী করতে হবে ৩. জাতীয় পাঠ্যক্রমে বাল্যবিবাহের ক্ষতিকারক বিষয়গুলো অন্তর্ভূক্ত করা। ৪. কন্যাশিশু নির্যাতনকারী বখাটেদের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক আশ্রয়-প্রশ্রয় না দেয়া ৫. যে মেয়েটি বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করেছে, সেই মেয়েটি কেমন আছে স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে তার খোঁজ খবর রেখে লেখাপড়া নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাবার ব্যবস্থা করা ৬. করোনার কারনে যারা স্কুল থেকে ঝরে পড়েছে তাদেরকে স্কুলে ফিরিয়ে আনা এবং ইতিমধ্যে যাদের বাল্যবিয়ে হয়েছে সেই মেয়েগুলোর সুরক্ষায় কাজ করা ৭. বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সরকারিভাবে পুরষ্কার ঘোষণা করা ৮. উত্ত্যক্তকরণ, যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন রোধে  ‘যৌন হয়রানি প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন’ নামে একটি আইন জরুরি ভিত্তিতে প্রণয়ন করা।

প্রতিযোগিতায় শহীদ পুলিশ স্মৃতি কলেজকে পরাজিত করে ঢাকা সিটি কলেজ চ্যাম্পিয়ন হয়। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলের মাঝে ট্রফি ও সনদপত্র প্রদান করা হয়। প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন ড. এস এম মোর্শেদ, নিশাত সুলতানা, সাংবাদিক অনিমেষ কর, শারমিন নীরা এবং সবুজ ইউনুস। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি।