সারাদেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দুর্গোৎসবের প্রতিমা ভাংচুর, বিভিন্ন প্রান্তে সাম্প্রদায়িক হামলা ও সহিংসতার ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবাদী আলোক প্রজ্জ্বলন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জুম্ম শিক্ষার্থীদের পরিবার ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জুম সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংসদ। 

রোববার সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের বুদ্ধ মূর্তির সামনে এই আলোক প্রজ্জ্বলনের আয়োজন করা হয়। 

ঢাবি জুম সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংসদের সভাপতি রাতুল তঞ্চঙ্গ্যার সভাপতিত্বে এবং সাংগঠনিক সম্পাদক ঐতিহ্য চাকমার সঞ্চালনায়  আয়োজনে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন এবং জগন্নাথ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মিহির লাল সাহা। এছাড়া স্বাগত বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জুম সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংসদের সহ-সভাপতি সতেজ চাকমা। 

সংহতি বক্তব্যে মিহির লাল সাহা বলেন, ‘আমাদের দেশে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, মুসলমান- এই চার ধর্মের মানুষ সম্প্রীতির সাথে মিলেমিশে বসবাস করে আসছে। আমাদের কোনো কোনো মানুষের মধ্যে কিছু অন্ধকারাচ্ছন্ন দিক রয়েছে। যার ফলে এই ভুলগুলো করে।  এই মোমের আলোয় সেই অন্ধকার দিকটা যেন দূরীভূত হয় এবং সৎবুদ্ধির যেন উদয় হয় তা আমি কামনা করি।’  

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা প্রথমে মানুষ। বিজ্ঞানের ভাষায় যদি বলি সকল মানুষের শরীরে সমানভাবে ৪৬টি ক্রোমোজম রয়েছে। এমন না যে  হিন্দুদের ৪৫ টি, মুসলিমদের ৪৪টি বা বাকিদের ৪৭টি- এরকম নয় কিন্তু। সকলের সমান সংখ্যক ক্রোমোজম আছে। তাহলে প্রকৃত অর্থে মানুষ হিসাবে সকলেই সমান হওয়াটা স্বাভাবিক। ধর্ম যার যার উৎসব সবার এবং সবার যার যার ধর্ম পালনের স্বাধীনতা আছে।’ 

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জুম্ম শিক্ষার্থী পরিবারের সিনিয়র শিক্ষার্থী ওতাইচিং চাকমা, তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সুমেধ চাকমাসহ আরও অনেকে। 

সভাপতির বক্তব্যে রাতুল তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, ‘একজন বিবেকবান এবং যুক্তিবাদী মানুষ হিসাবে আমরা কোনো সাম্প্রদায়িকতাকে সমর্থন করতে পারি না। আমাদের দেশের সংবিধান আমাদের স্ব স্ব ধর্ম স্বাধীনভাবে পালনের গ্যারান্টি দিয়েছে। কাজেই আমরা সকল প্রকার সাম্প্রদায়িক হামলা এবং  সারাদেশ ব্যাপী দুর্গোৎসবের প্রতিমা ভাংচুর এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। আমরা এই সাম্প্রদায়িক হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার এবং আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।’

পরে ‘মানবতার আলোয় উৎপাটিত হোক মৌলবাদী অপশক্তি’ এই স্লোগানে সাম্প্রতিক সময়ে সাম্প্রদায়িক হামলায় নিহত ও আহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। মৌলবাদী অপশক্তির মূলোৎপাটনে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।