ফেনীতে ফেসবুক লাইভে এসে স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা মামলার আসামি ওবায়দুল হক টুটুলকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার ফেনীর জেলা ও দায়রা জজ ড. বেগম জেবুন্নেছা এই রায় ঘোষণা করেন। আদালত একই সঙ্গে ওবায়দুলকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। 

এদিন সকালে পুলিশ ওবায়দুল হক টুটুলকে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে উপস্থিত করে। বেলা ১১টায় আদালত রায় পড়া শুরু করেন। কয়েক মিনিটের মধ্যে আদালত রায়ের মূল অংশ পাঠ করে শুনান। এ সময় টুটুলকে নির্বাক মনে হচ্ছিল। রায় ঘোষণার পরই পুলিশ তাকে ফেনী জেল হাজতে পাঠিয়েছে। 

আদালতের পিপি হাফেজ আহাম্মদ জানান, এই হত্যা মামলার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমানিত হওয়ায় আদালত আসামিকে সর্বোচ্চ দণ্ড ফাঁসির রায় ঘোষণা করেছেন।

পিপি জানান, গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর দুপুরে স্ত্রীকে হত্যার আগে আসামি টুটুল ফেসবুক লাইভে এসে সবার কাছে মাফ চান এবং ঘটনার জন্য নিজেই দায়ী বলে স্বীকার করে স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা করে। এ সব ভিডিও আদালতে উপস্থাপন করা হয়।   মামলায় সরকার পক্ষ মোট ১৩ জনের সাক্ষ্য উপস্থাপন করে।

পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় তাহমিনার বাবা সাহাব উদ্দিন বাদী হয়ে ফেনী মডেল থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফেনী মডেল থানার পুলিশের উপ-পরিদর্শক মো. ইমরান হোসেন গত ১১ নভেম্বর টুটুলকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন। আদালত ১৫ ডিসেম্বর একমাত্র আসামি ওবায়দুল হক টুটুলকে অভিযুক্ত করে চার্জ গঠন করেন। 

পরিবার সূত্র জানায়, প্রায় ৫ বছর আগে ফেনী পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বারাহিপুর এলাকার গোলাম মাওলা ভূঁঞার ছেলে ওবায়দুল হক ভূঁঞা টুটুলের সঙ্গে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার আকদিয়া গ্রামের সাহাব উদ্দিনের মেয়ে তাহমিনা আক্তারের বিয়ে হয়। তাদের তাফান্নুন আরোয়া মায়োস নামে দেড় বছর বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে।