প্রচলিত আইনে বিচার করা না গেলে প্রয়োজনে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে সাম্প্রদায়িক হামলার বিচার করার জন্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ।

সম্প্রতি কুমিল্লায় পূজা মণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরীফ অবমাননাকে কেন্দ্র করে সারাদেশে সাম্প্রদায়িক হামলা, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও হত্যার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত এক প্রতিরোধ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সামাজিক সংগঠন ‘গৌরব’৭১’ এর আয়োজন করে।

তিনি বলেন, বিভিন্ন সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উষ্কানীমূলক পোস্ট দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে রামু, সুজানগর, নারয়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় যে সংঘর্ষ, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছিলো সেগুলোর বিচার এখনও শেষ হয়নি।

এসময় তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রনালয়সহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, অতিদ্রুত এই ঘটনাগুলোর বিচার করুন। এই ঘটনাগুলোর বিচার বিলম্ব হওয়ার কারণেই মৌলবাদী শক্তিগুলো বারবার সাহস পাচ্ছে। সাধারণ আইনে না হলে প্রয়োজনে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল করে এই হামলাগুলোর বিচার করুন।

সমাবেশে মাহবুব উল আলম হানিফ বলেছেন, আমরা যারা মুসলমান, যারা হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সকল ধর্মের মানুষ তার ধর্ম পালন করবে। আমরা ধর্মপরায়ন হতে চাই ধর্মান্ধ হতে চাই না। ধর্মান্ধতার মাধ্যমে সমাজকে কলুষিত করা হচ্ছে। 

হানিফ বলেন, ১৯৭১ সালে ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে লক্ষ লক্ষ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। এখনও আবার ধর্মের অপব্যবহার করে অন্য ধর্মে মানুষের উপর হামলা করা হচ্ছে। তাদের ধর্ম পালনে বাধা দেওয়া হয়েছে যেটা কখনো বরদাস্ত করার মতো নয়। শেখ হাসিনার একজন কর্মী থাকতেও এই বাংলাতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে দেওয়া যাবে না।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এফ এম শাহিনের সঞ্চালনায় সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ড.মুহাম্মদ সামাদ, নাটোর-৪ আসনের সাংসদ অধ্যাপক আবদুল কুদ্দুস, ঢাকা-৪ আসনের সাংসদ অ্যাডভোকেট সানজিদা খানম, চাঁদপুর-২ আসনের সাংসদ নুরুল আমিন রুহুল, কুষ্টিয়া-৪ আসনের সাংসদ সেলিম আলতাফ জর্জ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহম্মেদ মান্নাফি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস প্রমুখ। সমাবেশ শেষে একটি প্রতিরোধ মিছিল বের করা হয়।