রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর ধলপুরে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের পিটুনিতে রিয়াদ আহমেদ (১৪) নামে এক স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। গত বুধবার রাতে আহত হওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাতে সে মারা যায়। এ ঘটনায় শুক্রবার যাত্রাবাড়ী থানায় একটি মামলা হয়েছে। জড়িত একজনকে আটক করেছে পুলিশ।

নিহতের ভগ্নিপতি এস এম আলমগীর হোসেন সমকালকে বলেন, এলাকার দুই দল বখাটে ও মাদকাসক্ত কিশোরের মধ্যে মারামারি হয়েছিল। এর পরপরই রিয়াদ নামাজ পড়ে ওই পথে ফিরছিল। বখাটেরা প্রতিপক্ষ ভেবে তাকে রড দিয়ে পেটায়। এতে পরে তার মৃত্যু হয়।

পুলিশ ও নিহতের স্বজনরা জানায়, পরিবারের সঙ্গে ধলপুরের ১৪ নম্বর আউটফল এলাকার কোল্ড স্টোরেজ গলির বাসায় থাকত রিয়াদ। সে স্থানীয় বিবির বাগিচা এলাকার সবুজ বিদ্যাপীঠ উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র ছিল। বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে সে ধলপুরের বাঁশপট্টি এলাকা দিয়ে বাসায় ফিরছিল। এর আগে সেখানে কিশোর গ্যাং সাব্বির গ্রুপের সঙ্গে আরেকটি কিশোর গ্রুপের মারামারি হওয়ায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল। রিয়াদকে দেখে সাব্বিরের গ্রুপ প্রতিপক্ষ ভেবে মারধর করে।

নিহতের বড়ভাই রায়হান আহমেদের বন্ধু আশরাফুল ইসলাম সাগর সমকালকে বলেন, মারধরের একপর্যায়ে তারা বুঝতে পারে যে রিয়াদ কিশোর গ্যাংয়ের কেউ নয়। তখন ওই কিশোরেরা তার মাথায় পানি দেয় ও ব্যাথার ওষুধ কিনে খাইয়ে দেয়। সেইসঙ্গে নিজেদের ভুল স্বীকার করে বিষয়টি বাসায় না জানাতে অনুরোধ করে। ফলে রিয়াদও বাসায় জানায়নি। কিন্তু তার মাথার আঘাত ছিল গুরুতর। ভেতরে রক্ত জমাট বেঁধে গিয়েছিল। গভীর রাতে সে মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়ে। তখন তার মুখ দিয়ে ফেনার মতো বের হচ্ছিল। তা দেখের পরিবারের সদস্যরা ভেবে নেন যে, সে নেশাজাতীয় কিছু খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে সেখানকার চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে নেওয়া হয় সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে তার মৃত্যু হয়। পরে এ ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত সাব্বিরকে আটকে মারধর করে স্থানীয়রা। পরে তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।

পারিবারিক সূত্র জানায়, রিয়াদের বাবা শুক্কুর আলী সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মী। তার দুই ছেলে দুই মেয়ের মধ্যে রিয়াদ ছিল সবার ছোট। তাদের গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জে।

যাত্রাবাড়ী থানার এসআই আবুল খালেক জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে যায়। রিয়াদের মৃত্যুর পর তার ভাই বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করেছেন। জড়িতদের আইনের আওতায় নিতে কাজ করছে পুলিশ।