চাঁদপুর জেলার শাহরাস্তি উপজেলায় চাঞ্চল্যকর নুরুল আমিন দম্পতি হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। চুরি করতে যাওয়া চোরকে চিনে ফেলায় নুরুল আমিন (৬৫) ও তার স্ত্রী কামরুন নাহারকে (৬০) লোহার রড দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়। 

এই হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি মো. আব্দুল মালেকসহ (৩৪) তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই। আব্দুল মালেক উপজেলার মেহের ঘুঘুশাল গ্রামের মোহাম্মদ আব্দুর রহমানের ছেলে। গ্রেপ্তার অপর দুইজন হলেন- ঝালকাঠি জেলার গাবখান গ্রামের মৃত আজহার আলীর ছেলে মো. ইলিয়াস হোসেন (৫৩) এবং বরিশাল জেলার কাউনিয়ার চরবাড়ীয়া গ্রামের কাঞ্চন হাওলাদারের ছেলে মো. বশির হাওলাদার (৪৫)।

শনিবার দুপুরে গ্রেপ্তার তিনজনকে আদালতে পাঠানো হয়। আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তারা জানায়, চুরি করতে যাওয়া মালেককে চিনে ফেলায় নুরুল আমিন দম্পতিকে হত্যা করা হয়।

শনিবার বিকেলে চাঁদপুর শহরের বাবুরহাটস্থ পিআইবি চাঁদপুর কার্যালয়ে এই ব্যাপারে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। সেখানে পিবিআই চাঁদপুরের পুলিশ সুপার খন্দকার নূর রেজওয়ানা পারভীন জানান, ২৯ জুন শাহরাস্তির নাওড়া রেলক্রসিং এলাকায় নিজ বাড়িতে খুন হন নুরুল আমিন দম্পতি। ১ জুলাই বাড়ির ছাদে নুরুল আমিন এবং ঘরের মেঝেতে কামরুন নাহারের রক্তাক্ত লাশ পাওয়া যায়। এই ঘটনায় নিহতের একমাত্র ছেলে মোহাম্মদ জাকারিয়া বাবু শাহরাস্তি থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। মামলাটি শাহরাস্তি থানা পুলিশ প্রায় এক মাস তদন্ত করে। পরবর্তীতে বাদীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য পিআইবিকে দায়িত্ব দেয়।

আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে লিখিত বক্তব্যে আরও জানানো হয়, ঘটনার রাত আনুমানিক ৭টার দিকে মালেক চুরির উদ্দেশ্যে নুরুল আমিনের বাড়িতে যায়। এরপর তিনি সিঁড়ি দিয়ে ছাদে উঠে অবস্থান করেন। রাত সোয়া ৯টার দিকে নুরুল আমিন টর্চ লাইট হাতে ছাদে উঠলে তার মাথায় লোহার রড দিয়ে আঘাত করে মাটিতে ফেলে দেয়। এরপর ছাদে শুকাতে দেওয়া মোজা দিয়ে গলায় পেঁচিয়ে তাকে হত্যা করে। সেখান থেকে তিনি ভেতরে একটি রুমে প্রবেশ করে চুরির জন্যে কেবিনেটের ড্রয়ার টানাটানি করতে থাকেন। এতে কামরুন নাহার শব্দ পেয়ে লাইট জ্বালিয়ে মালেককে দেখে চিনে ফেলেন। এ সময় মালেক একই রড দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে মেঝেতে ফেলে দেয়। পরবর্তীতে মালেক নুরুল আমিনের ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোনসহ অন্যান্য জিনিসপত্র নিয়ে ছাদের উপরে উঠে। পরে হত্যায় ব্যবহৃত রডটি নিচে ছুঁড়ে ফেলে পালিয়ে যায়।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে রেজওয়ানা পারভীন বলেন, ঘটনার অধিকতর তদন্ত করা পিবিআইয়ের কাজ। আমরা অধিকতর তদন্তের স্বার্থে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রধান আসামি মালেককে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হই। এরপর তার দেওয়া তথ্যমতে অপর দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছে হত্যার শিকার নুরুল আমিনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনসসহ অন্যান্য মালামাল পাওয়া গেছে।