সাম্প্রদায়িক হামলা প্রতিরোধে প্রশাসনকে আরও বেশি তৎপর হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশিষ্টজন। তারা বলেছেন, এই হামলা মন্দির কিংবা একটি সম্প্রদায়ের ওপর নয়; এই হামলা মুক্তিযুদ্ধের ওপর, অসাম্প্রদায়িকতার ওপর। একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের জন্য বীর শহীদরা আত্মাহুতি দিয়েছিলেন। তাদের রক্ত যেন বৃথা না যায়, সেজন্য শুভবোধসম্পন্ন সকলকে একাত্তরের মতো ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ থাকলে এই হামলা প্রতিরোধ করা সম্ভব। এ সময় তারা এ ধরনের হামলার মাধ্যমে যেন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে প্রশাসনকে তৎপর হওয়ার আহ্বান জানান।

সোমবার বিকেলে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে 'সম্প্রীতি বাংলাদেশ' আয়োজিত সম্প্রীতি সমাবেশে বিশিষ্টজন এসব কথা বলেন। সম্প্রীতি বাংলাদেশের আহ্বায়ক পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভাপতিত্বে সমাবেশে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী দক্ষিণ এশীয় গণসম্মেলনের সভাপতি সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের মহাসচিব হারুন হাবীব, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. শরফুদ্দিন আহমেদ, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক নিজামুল হক ভূইয়া, চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. নাছিম আখতার, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সহসাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. নুজহাত চৌধুরী, প্রজন্ম-৭১-এর সভাপতি আসিফ মুনির তন্ময়, মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক উত্তম কুমার বড়ুয়া, বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মিছবাহুর রহমান চৌধুরী, বাংলাদেশ সম্মিলিত ইসলামী জোটের সভাপতি জিয়াউল হাসান, রমনা কালীমন্দিরের সভাপতি উৎপল সাহা, খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের মহাসচিব উইলিয়াম প্রলয় সমাদ্দার, বাংলাদেশ ব্যাপ্টিস্ট চার্চ সংঘের সভাপতি রেভারেন্ট মার্টিন অধিকারী, বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘের মহাসচিব পি আর বড়ুয়া, ধর্মরাজিক বৌদ্ধ বিহারের ভিক্ষু সুনান্দ সুপ্রিয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক অনুষদ বিভাগের ডিন অরুণ গোস্বামী প্রমুখ। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনটির সদস্য সচিব অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীল।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং অসাম্প্রদায়িক দর্শন বিনষ্টের ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ডে আমরা উদ্বিগ্ন। যে নিরাপত্তাহীন এক ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে তা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, স্বাধীনতা ও স্বার্বভৌমত্ব ধ্বংসের চেষ্টা ছাড়া আর কিছু নয়। তারা বলেন, হাজার বছরের সম্প্রীতির সংস্কৃতি ধ্বংস করতে '৭৫ সালের পর থেকে চলছে পরিকল্পিত চক্রান্ত ও আঘাত। দেশে সাম্প্রদায়িক, মৌলবাদী শক্তির বারবার যে উত্থান ঘটেছে তা রোধ করা না গেলে দেশের গণতান্ত্রিক ও মানবিক ভবিষ্যৎ রক্ষা করা কঠিন হবে। তাই আজ প্রয়োজন প্রগতিশীল শক্তির ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ। একই সঙ্গে সম্প্রীতির পবিত্র বাণী প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দেওয়াও অত্যন্ত জরুরি।

ছবি: সমকাল

সমাবেশ থেকে সাত দফা দাবি তুলে ধরেন পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়। দাবিগুলো হলো- সাম্প্রতিক ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা, অতীতের ঘটনার দ্রুত বিচার সম্পন্ন করা, সাম্প্রতিক ঘটনার ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর এবং উপাসনালয় দ্রুত সংস্কারের ব্যবস্থা করা, বাংলাদেশে যেন আর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের ঘটনা না ঘটে সেজন্য প্রশাসনের আরও বেশি তৎপর হওয়া; মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদসহ শিক্ষা ব্যবস্থায় মানবিক মূল্যবোধ ও সহনশীলতার বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা, আবহমান বাংলার সংস্কৃতি চর্চায় তরুণ ও যুব সমাজকে অধিকতর সম্পৃক্ত করতে যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও উস্কানি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া।

সম্প্রীতি সমাবেশে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি, সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, প্রজন্ম একাত্তর, উদীচী, রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন, বঙ্গবন্ধু পরিষদ, জাতীয় কবিতা পরিষদ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন, বাংলাদেশ পথনাটক পরিষদ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হেপাটোলজি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন, অপরাজেয় বাংলা, বঙ্গবন্ধু স্মৃতি ও গবেষণা পরিষদ, সাম্প্রদায়িকতা ও জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ মোর্চা, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট, স্বাধীনতা সরকারি চাকরিজীবী জাতীয় পরিষদ, গৌরব ৭১, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড, বঙ্গবন্ধু সমাজ কল্যাণ পরিষদ, বাংলাদেশ অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট ফোরাম, মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আইন সমিতি, ইউনিটি ফর ইয়াং জার্নালিস্ট, প্রগতিশীল কলামিস্ট ফোরাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বৌদ্ধ ছাত্র সংসদসহ ৮৯টি সংগঠন একাত্মতা ঘোষণা করে।