রাজধানীর আটটি কেন্দ্রে স্কুল ও কলেজের ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের টিকাদান শুরু হয়েছে। এসব কেন্দ্রে মঙ্গলবার ৯ হাজার ছাত্রছাত্রী টিকা নিতে পেরেছেন। যদিও লক্ষ্য ছিল ১৭ হাজার শিক্ষার্থীকে টিকা দেওয়ার।

টিকা নিয়ে কেন্দ্রগুলোতে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। তবে টিকা পেতে নানা ভোগান্তিও সইতে হয়েছে তাদের। সকাল ৮টায় এসেও সাড়ে ১১টা পর্যন্ত টিকা নিতে পারেনি অনেকে।

সোমবার রাজধানীর মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষার্থীদের টিকাদান কার্যক্রম উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়ার কাজে ব্যবহূত কেন্দ্রগুলো হলো- মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, হার্ডকো ইন্টারন্যাশনাল স্কুল (ভাটারা), সাউথ পয়েন্ট ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ (মালিবাগ), চিটাগং গ্রামার স্কুল (বনানী), কাকলি হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ (ধানমন্ডি), ঢাকা কমার্স কলেজ (চিড়িয়াখানা রোড), স্কলাস্টিকা (মিরপুর ১৩) ও সাউথ ব্রিজ স্কুল (উত্তরা)।

মঙ্গলবার রাজধানীর আটটি কেন্দ্রে ২৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মোট ১৭ হাজার ৬২ জন শিক্ষার্থীকে টিকা দেওয়ার টার্গেট ছিল। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত টিকা দেওয়া হয়। টিকা নেওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের টিকা কার্ডের দুটি কপি সঙ্গে করে নিয়ে কেন্দ্রে আসতে হয়েছে।

এদিন সকালে ধানমন্ডির কাকলি হাইস্কুলে গিয়ে দেখা গেল, শিক্ষার্থীরা টিকা নিতে কেন্দ্রের বাইরে অপেক্ষা করছে। অনেক শিক্ষার্থীর সঙ্গে অভিভাবকও এসেছেন। ধানমন্ডি, কলাবাগান, মোহাম্মদপুর, আদাবর, শেরে বাংলা নগর -এই চারটি থানার আওতাধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো এই কেন্দ্র থেকে টিকা নেওয়ার কথা। তবে প্রথমদিনে চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা টিকা নিয়েছে।

সকালে টিকা নিতে কাকলি হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে ভিড় করেছিল ইউরোপিয়ান স্ট্যান্ডার্ড স্কুল ও বিসিএসআইআর হাই স্কুলের শিক্ষার্থীরা। বিকেলে টিকা নেয় মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা। বিসিএসআইআর স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী জিসান সমকালকে বলেন, আব্বুর সঙ্গে টিকা নিতে এসেছি। আব্বু বাইরে অপেক্ষা করছেন। এখন আর ভয় পাচ্ছি না। টিকা নেওয়ার পর বিশ্রাম নিয়েছি। এখন বাসায় যাবো।
ইউরোপিয়ান স্ট্যান্ডার্ড স্কুলের শিক্ষার্থী মালিহা মাহজাবিন বলে, আমার খুব ভালো লাগছে যে উন্নত দেশের মতো আমরাও টিকা নিতে পারছি। এখানে খুব সুন্দর পরিবেশে টিকা নিতে পেরেছি।

কাকলি স্কুল কেন্দ্রে ১০টি বুথে টিকা দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি বুথে ২০০ জন শিক্ষার্থী টিকা নিতে পারে। সেই হিসেবে মঙ্গলবার মোট দুই হাজার শিক্ষার্থী এ কেন্দ্রে টিকা নিতে পেরেছে। তবে কেন্দ্রে প্রতিদিন ৮ হাজার শিক্ষার্থীকে টিকা দেওয়া সম্ভব বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা গেছে, টিকা দেওয়ার সময় বেশি সময় নষ্ট হয়েছে স্কুলের পোশাক পরে থাকার কারণে। কিছু কেন্দ্রে দেখা যায়, টিকা নেওয়ার পর বিশ্রামে না থেকে শিক্ষার্থীরা মাঠে দৌড়াদৌড়ি ও আনন্দে মেতে ওঠে। এতে অনেকে অসুস্থও হয়ে পড়ে।

এসব কারণে টিকা নিতে আসা শিক্ষার্থীদের জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর থেকে কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মাউশি মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. মো. গোলাম ফারুক সমকালকে বলেন, টিকা নিতে আসা শিক্ষার্থীদের অপেক্ষাকৃত ঢিলা হাতার স্কুল ড্রেস পরে বিদ্যালয়ে আসতে হবে। ছেলেরা হাফ হাতা শার্ট পরে আসবে। এতে টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা হবে না।

মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ড. শাহান আরা বেগম বলেন, 'শিক্ষার্থীদের জানিয়ে দিয়েছি, ঢিলা জামা পরে আসবে মেয়েরা। এছাড়া ছেলেরা হাফ হাতা শার্ট পরে আসবে। স্কুল ড্রেস পরেই আসতে বলা হয়েছে। কারণ, কোন স্কুলের শিক্ষার্থীকে টিকা দেওয়া হচ্ছে, তা ড্রেসে নির্ধারণ করা যাবে। নির্ধারিত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা যাতে নির্ধারিত কেন্দ্রে টিকা দিতে পারে, সেটা নিশ্চিত করার জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।'

অধ্যক্ষ ড. শাহান আরা বেগম আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের বাসা থেকে পেট ভরে খেয়ে আসতে বলা হয়েছে। যাতে কেউ দুর্বলতা অনুভব না করে। টিকা নেওয়ার পর কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিতে হবে।

রাজধানীর সাউথ পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজে গিয়ে দেখা গেছে, শিক্ষার্থীদের করোনাভাইরাসের টিকা দেওয়া হচ্ছে। সকাল ৯টা থেকেই টিকা নিতে দীর্ঘ লাইনে ভিড় করছে শিক্ষার্থীরা। ফলে সেখানে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। অনেক শিক্ষার্থীর সঙ্গে আবার অভিভাবকরা এসেছেন। সাউথ পয়েন্টের নিচতলায় রেজিস্ট্রেশন বুথ। আর তিনতলায় ৭টি টিকাদান বুথ এবং চারতলায় ব্যবস্থা করা হয়েছে বিশ্রামের। সেখানে টিকাদান কর্মসূচি তত্ত্বাবধান করছেন বাড্ডা শিক্ষা থানা অফিসার আব্দুল হাকিম। তিনি জানান, বাড্ডা শিক্ষা থানায় ৪০ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। তাদের টিকাদান কর্মসূচি চলবে এই স্কুলে। প্রতিদিন দুই হাজার শিক্ষার্থীকে এ কেন্দ্রে টিকা দেওয়া হবে।

টিকা নিতে আসা সাউথ পয়েন্টের বারিধারা শাখার শিক্ষার্থী ফয়েজ আহমেদ বলে, একসঙ্গে অনেক শিক্ষার্থীকে টিকা দেওয়ায় দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। তারপরও টিকা পাবো বলে খুশি লাগছে।

মিরপুরের চিড়িয়াখানে রোডে ঢাকা কমার্স কলেজ কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উপচেপড়া ভিড়। সামাজিক দূরত্ব মানা হচ্ছে না।
কমার্স কলেজ কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, টিকা পৌঁছাতে দেরি হওয়ায় এ ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। ঢাকা কমার্স কলেজে টিকা দেওয়া হবে শাহআলীবাগ, দারুস সালাম, পল্লবী ও রূপনগরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের।