বাংলাদেশ থেকে দুবাইয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জনশক্তি রপ্তানি বন্ধ থাকলেও সেখানে এ দেশের শ্রমিকদের চাহিদা রয়েছে। কিছু প্রতিষ্ঠান ভ্রমণ ভিসায় দুবাইয়ে অবস্থানকারীদের কাজের বৈধতাও (ওয়ার্ক পারমিট) দেয়। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে গত কয়েক বছরে পাঁচ শতাধিক মানুষকে সেখানে পাচার করেছেন নাইম খান ওরফে লোটাস নামের এক পাচারকারী। এ জন্য তিনি গড়ে তুলেছেন বড় সিন্ডিকেট। র‌্যাব-৩-এর একটি দল নাইমসহ তার চক্রের আটজনকে গ্রেপ্তার করলে এসব তথ্য বেরিয়ে আসে।

র‌্যাব কর্মকর্তারা বলছেন, নাইমের চক্রটি জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) ইমিগ্রেশন ক্লিয়ারেন্স কার্ড নকল করে লোকজনকে পাচার করত। বিএমইটির আসল কার্ড নকল করে নকল কার্ড বানাত। সম্প্রতি নকল বিএমইটি কার্ড ব্যবহার করে দুবাইয়ে পাচারের সময় ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা কয়েকজনের বিদেশ যাত্রা স্থগিত করেন। এরপর ওই ঘটনা তদন্তে নাইমের চক্রের বিষয়ে সন্ধান মেলে।

মূল হোতা ৩১ বছর বয়সী নাইম ছাড়াও গ্রেপ্তার তার সাত সহযোগী হলেন- নূরে আলম শাহরিয়ার (৩২), রিমন সরকার (২৫), গোলাম মোস্তফা সুমন (৪০), বদরুল ইসলাম (৩৭), খোরশেদ আলম (২৮), মো. সোহেল (২৭) ও মো. হাবিব (৩৯)। শুক্রবার রাত থেকে গতকাল শনিবার ভোর পর্যন্ত রাজধানীর তুরাগ, উত্তরা, রমনা, পল্টন এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১৪টি পাসপোর্ট, ১৪টি নকল বিএমইটি কার্ড, একটি সিপিইউ, একটি প্রিন্টার, একটি স্ক্যানার, দুই বপ খালি কার্ড, পাঁচটি মোবাইল ফোনসেট, একটি চেক বই ও পাঁচটি নকল সিল উদ্ধার করা হয়।

শনিবার দুপুরে এ বিষয়ে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করেন বাহিনীর কর্মকর্তারা। সেখানে র‌্যাব-৩-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল রকিবুল হাসান বলেন, দুবাইপ্রবাসী নাইম গত মে মাসে দেশে আসেন। দুবাই ও দেশে অবস্থান করে মানব পাচার চালিয়ে যান। উচ্চ বেতনে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে দুবাই যাওয়ার জন্য প্রলুব্ধ করে তার লোকজন। ভুক্তভোগীরা রাজি হলে দুই থেকে তিন লাখ টাকার বিনিময়ে তাদের ভ্রমণ ভিসায় দুবাই নিয়ে যান নাইম। তবে ভ্রমণ ভিসায় যাওয়ার পর তাদের কেউ কেউ কাজের সুযোগ পেলেও অধিকাংশই কাজ না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

র‌্যাব অধিনায়ক বলেন, নাইম সাত বছর ধরে পাঁচ শতাধিক মানুষকে দুবাই পাচার করেছেন। মানব পাচার থেকে অর্জিত অবৈধ উপার্জন দিয়ে তিনি দুবাইয়ে নিজস্ব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন এবং রেসিডেন্স ভিসা নিয়েছেন। গ্রেপ্তার অন্যরা তাকে নানাভাবে সহায়তা করে আসছিল।

র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে নাইম বলেছেন, দুবাইয়ে ফারুক নামের তার একজন সহকারী রয়েছে এবং নুরে আলম শাহরিয়ার বাংলাদেশে তার মূল সহযোগী। শাহরিয়ার মূলত যাবতীয় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরি করে দেয়। বিএমইটি কার্ড নকল করত হাবিব ও খোরশেদ। ভুক্তভোগীদের ১৫ হাজার টাকার বিনিময়ে এই কার্ড তুলে দেওয়া হতো।

নকল বিএমইটি কার্ড তৈরির প্রক্রিয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার হাবিব জানান, তিনি মহসিন নামের একজনের কাছ থেকে লেখাবিহীন কার্ড কিনে আনেন। এরপর আসল বিএমইটি কার্ড স্ক্যান করে নিজেই গ্রাফিক্সের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পাসপোর্টে থাকা তথ্যগুলো ওই কার্ডে সংযোজন করেন।