রাজধানীর মহাখালীতে গাড়ি দুর্ঘটনায় দুই তরুণ নিহত হওয়ায় কাফরুল থানায় দুটি মামলা হয়েছে। কোনো অভিযোগ না থাকায় পুলিশ দুটি মামলাই অপমৃত্যু হিসেবে নিয়েছে। 

এদিকে দুর্ঘটনায় আহত গাড়িচালক মো. মহসিন চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল ছেড়েছেন। তবে আহত ইশরাক আহমেদ স্বাধীন এখনও চিকিৎসাধীন বলে পুলিশ জানিয়েছে। তিনি সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের ছেলে।

মঙ্গলবার ভোরে একটি পাজেরো গাড়ি মহাখালীর রাওয়া ক্লাবের কাছে ফ্লাইওভারের নিচে পৌঁছলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রেলিংয়ের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে গিয়ে উমর আয়মান (২২), ফাহিম আহমেদ রাইয়ান (২০) ও মো. মহসিনকে হাসপাতালে নেয়। তাদের মধ্যে আয়মান ও রাইয়ানকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।

নিহত আয়মান কর্নেল (অব.) ফারুক আহমেদের ছেলে এবং রাইয়ান মৃত ইলিয়াস আহমেদের ছেলে। ইলিয়াস ব্যবসায়ী ছিলেন। আহত মহসিন পেশায় ওই গাড়ির চালক হলেও দুর্ঘটনার সময় গাড়িটি চালাচ্ছিলেন আয়মান। পরে পুলিশ জানতে পারে, দুর্ঘটনার সময় ওই গাড়িতে দুই তরুণীসহ আরও তিনজন ছিলেন। তাদের হদিস পাওয়া না গেলেও পরে ইশরাক আহমেদ স্বাধীনকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পায় পুলিশ।

পুলিশ জানায়, আয়মান ও রাইয়ান নিহত হওয়ায় তাদের দুই স্বজন মঙ্গলবার রাতে কাফরুল থানায় পৃথক অপমৃত্যুর মামলা করেছেন। আয়মানের মৃত্যুর ঘটনায় তার মামা আবু তারেক মোহাম্মদ জাকারিয়া বাদী হয়ে মামলা করেন। এতে বলা হয়েছে, গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারানোয় আয়মান নিহত হন। এই মৃত্যুর বিষয়ে স্বজনদের কোনো অভিযোগ বা সন্দেহ নেই। রাইয়ানের মৃত্যু ঘটনায় মামলা করেন তার মামা হারুন খান। এতেও কোনো অভিযোগ বা সন্দেহ না থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। হারুন খান জানিয়েছেন, রাইয়ান কানাডার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তেন। করোনা মহামারির কারণে ঢাকায় এসে আটকা পড়েন তিনি। বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে দুর্ঘটনায় পড়েন।

দুটি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাফরুল থানার উপপরিদর্শক আলমগীর জলিল সমকালকে বলেন, কোনো সন্দেহ বা অভিযোগ না থাকায় দুই তরুণের লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়াই স্বজনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পর আহত চালক মহসিন জানিয়েছিলেন, তারা তিনজন ছাড়া আরও তিন আরোহী গাড়িতে ছিলেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পাওয়া যায়নি। পরে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ইশরাককে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পাওয়া যায়। তার সঙ্গে কথা বলে ঘটনা সম্পর্কে ধারণা নেওয়া হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, দুর্ঘটনার সময় গাড়িটি চালাচ্ছিলেন রাইয়ান। চালকের পাশের আসনে ছিলেন আয়মান। তারা দু'জনই মারা গেছেন। 

দ্বিতীয় সারিতে ছিলেন ইশরাকসহ তিনজন। একেবারে পেছনে বসেছিলেন মহসিন। তবে যে দুই তরুণী থাকার কথা বলা হয়েছে, তাদের সন্ধান মেলেনি। তাদের খুঁজে পেতে বিভিন্ন হাসপাতালে খবর নেওয়া হয়েছে। ইশরাক পুরোপুরি সুস্থ হলে হয়তো তাদের বিষয়ে জানা যাবে।