রাজধানীর পান্থপথ এলাকায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন-ডিএনসিসির ময়লার গাড়ির ধাক্কায় নিহত আহসান কবির খানের (৪৫) মৃত্যুর ঘটনায় তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা আবুল বাসার মুহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে ডিএনসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমডোর এস.এম. শরিফ-উল ইসলামকে আহ্বায়ক এবং মহাব্যবস্থাপক (পরিবহন) মো. মিজানুর রহমানকে সদস্য সচিব করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটিতে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) আবুল হাসনাত মো. আশরাফুল আলমকে সদস্য করা হয়েছে। 

তদন্ত কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে সুস্পষ্ট মতামতসহ প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদন প্রাপ্তির পর ডিএনসিসির পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

রাজধানীর পান্থপথে ফার্নিচার দোকানের সামনে বৃহস্পতিবার বেলা আড়াইটার দিকে ডিএনসিসির একটি ময়লার গাড়ির ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী আহসান কবির খান নিহত হন।

আবুল বাসার মুহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, ডিএনসিসি মেয়র মো. আতিকুল ইসলামের পক্ষ থেকে নিহতের পরিবারকে নগদ ৫০ হাজার টাকা, নিহতের নিজ বাড়ি পিরোজপুরে মরদেহ পরিবহন ও যাতায়াতের জন্য একটি ফ্রিজারভ্যান এবং একটি মাইক্রোবাস দেয়া হয়েছে। 

এছাড়াও ডিএনসিসি মেয়র নিহতের নবম ও চতুর্থ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত দুই সন্তানের লেখাপড়ার দায়িত্বভার‌ও গ্রহণ করেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অন্য সব যানবাহনের সঙ্গে উত্তর সিটির ময়লার গাড়িটি ট্রাফিক সিগন্যালে আটকে ছিল। সিগন্যাল ছাড়া মাত্রই গাড়িটি সিগন্যালে থাকা একটি মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই মোটরসাইকেলে থাকা আহসান কবির খান ছিটকে পড়েন। তিনি বাইকের পেছনে ছিলেন। তার মাথার ওপর দিয়ে গাড়ির চাকা চলে যায়। এরপর লোকজন ধাওয়া দিয়ে গাড়িটিকে জব্দ করে।

ডিএমপির (ট্রাফিক) সহকারী কমিশনার জাহিদ আহসান জানান, মরদেহ কলাবাগান থানায় রাখা হয়েছে।  ঘটনার পরপরই ময়লার গাড়ি জব্দ করা হয়েছে। তবে চালক পালিয়ে গেছেন।

এর আগে, বুধবার রাজধানীর গুলিস্তানে রাস্তা পার হওয়ার সময় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ময়লাবাহী একটি গাড়ি নটর ডেম কলেজের শিক্ষার্থী নাঈম হাসানকে ধাক্কা দেয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর নাঈমকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। এ ঘটনার পর থেকে বিক্ষোভ-অবরোধ করছেন তার সহপাঠীরা।