বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়েছেন বেশ কিছু শিক্ষার্থী। মঙ্গলবার বেলা দেড়টার দিকে রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ২৫ থেকে ৩০ জন শিক্ষার্থী সেখানে অবস্থান নেন। ২০১৮ সালের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সময় দেওয়া ৯ দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে শিক্ষার্থীরা এ অবস্থান কর্মসূচি হাতে নেন। 


শিক্ষার্থীরা জানান, তারা ৯ দফা দাবি বাস্তবায়নে দুই দিনের সময় বেঁধে দিয়েছিলেন। সেই সময়সীমা পার হয়ে গেছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ তাঁদের কোনো দাবি মেনে নেয়নি। দাবি মেনে প্রজ্ঞাপন জারি করা না হলে তাঁরা বিআরটিএ কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন।

গত ২৪ নভেম্বর গুলিস্তানে ঢাকা সিটি করপোরেশনের ময়লাবাহী গাড়ির ধাক্কায় নটর ডেম কলেজের ছাত্র নাঈম হাসান নিহত হওয়ার দিন থেকে ফের শুরু হয় নিরাপদ সড়ক আন্দোলন। শুক্রবার বিরতির পর মঙ্গলবার ষষ্ঠ দিনের মতো বিক্ষোভ কর চলছে। এর আগে থেকেই গণপরিবহনে শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ পাসের দাবিতে আন্দোলন চলছিল। আন্দোলনের মুখে ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি রাজধানীর গণপরিবহনগুলোতে  শিক্ষার্থীদের জন্য অর্ধেক ভাড়া কার্যকরের ঘোষণা দিয়েছে। তবে নিরাপদ সড়কের জন্য আগে দেওয়া ৯ দফা দাবির বাকিগুলো মেনে প্রজ্ঞাপন জারি না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।


বিআরটিএ কার্যালয়ের সামনে অবস্থানকারী এক শিক্ষার্থী বলেন, এর আগে ৯ দফা দাবিতে বিআরটিএ কার্যালয়ে এসেছিলাম। তখন দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। বিআরটিএ সময়ও চেয়েছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত দাবি পূরণ হয়নি। বিকেল চারটার মধ্যে (মঙ্গলবার) দাবি আদায় না হলে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। 


এর আগে মঙ্গলবার সকাল থেকে রাজধানীর সড়কে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। অন্যান্য দিন কাগজপত্র দেখে যান চলাচল করতে দিলেও আজ শিক্ষার্থীরা কোনো গাড়িই চলাচল করতে দিচ্ছিলেন না। এতে মিরপুর সড়কে তীব্র যানজট দেখা দেয়। এরপর পুলিশ শিক্ষার্থীদের অন্তত একটি লেনে গাড়ি চলাচল করতে দেওয়ার অনুরোধ করে। পুলিশের অনুরোধের পর শিক্ষার্থীরা কাগজপত্র যাচাই করে একটি লেনে গাড়ি চলতে দিচ্ছে। তবে সড়কে গাড়ি আটক করে কাগজপত্র যাচাই ও অল্পসংখ্যক গাড়ি চলাচল করতে দেওয়ায় সড়কে যান চলাচল প্রায় বন্ধ রয়েছে।