রাজধানীর মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বৃদ্ধাকে ধাক্কা দেওয়া ময়লার গাড়িটির মালিকানা স্বীকার করতে নারাজ দুই সিটি করপোরেশন। 

দুর্ঘটনার পর পুলিশ ওই গাড়ি জব্দ করলে দেখা যায়, গাড়িটিতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের স্টিকার রয়েছে। যাতে লেখা রয়েছে ‘ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন, গভীর নর্দমা জরুরি পরিস্কার কাজে নিয়োজিত।’

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আরজু বেগম (৬৫) নামে এক নারী বাস থেকে নামার সময় ময়লার গাড়ির ধাক্কায় আহত হন। পরে ময়লার গাড়ির চালক মাসুদ ও হেলপার রতনকে আটক করেছে পুলিশ।

মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো.সাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘রতন থানায় আটক আছে। চালক মাসুদ আঘাতপ্রাপ্ত নারীকে নিয়ে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে রয়েছেন।’

পরে তিনি বলেন, ‘ময়লার গাড়ি, চালক ও হেলপার ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের।’

বৃহস্পতিবার সকালে ওই ঘটনার পর স্টিকার সম্বলিত গাড়ির ছবি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ পেলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন দাবি করে, গাড়িটি তাদের নয়।

পরে বিভিন্ন সূত্র গাড়িটি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ‘হতে পারে’ বলে দাবি জানালে তারাও গাড়িটির মালিকানা অস্বীকার করেছে। 


ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) জনসংযোগ কর্মকর্তা আবুল বাশার মো. তাজুল ইসলাম বলেন, ‘আজ সকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় যে গাড়ির ধাক্কায় একজন বৃদ্ধা আহত হয়েছেন সেই গাড়িটি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নয়।’ 

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা আবু নাছের বলেন, ‘ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের কার্যক্রমে কিংবা করপোরেশনের অন্যান্য কোনো কার্যক্রমে "যশোর ট-১২৩৬" ক্রমিকের কোনো গাড়ি ব্যবহৃত হয় না। এমনকি করপোরেশনের গাড়ির যে তথ্যভাণ্ডার রয়েছে তাতেও এ ধরনের কোনো গাড়ির তথ্য-উপাত্ত নেই। এছাড়াও দুর্ঘটনাস্থল হিসেবে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংশ্লিষ্ট স্থানও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন এলাকায় নয়। সুতরাং এটা সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান যে, কথিত ময়লার গাড়িটি দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মালিকানাধীন নয়।’

মোহাম্মদপুর থানার এসআইয়ের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে ডিএসসিসি কর্মকর্তা আবু নাছের বলেন, ‘কোনো ব্যক্তি বা মহল অসাধু উদ্দেশ্য সাধনে কোনো সংস্থার নাম কাগজে কিংবা স্টিকারে ছাপিয়ে তা সংশ্লিষ্ট সংস্থার মালিকানা বহির্ভূত অন্য কোনো গাড়িতে সেটে দিলেই সেই গাড়িটি সংশ্লিষ্ট সংস্থার গাড়ি হয়ে যায় না। আর প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাই না করে, অপরাধের সাথে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে কারো মৌখিক প্রাথমিক স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে প্রাপ্ত তথ্য শতভাগ বস্তুনিষ্ট হবে – এ ধরণের নিশ্চয়তা বিধান করে না। কারণ অপরাধী ব্যক্তি মাত্রই নানা ধরনের ছলচাতুরির আশ্রয় নিয়ে থাকে।’

গত ২৪ নভেম্বর রাজধানীর গুলিস্তান গোলচত্বরে হল মার্কেটের সামনে বেলা ১১টায় ডিএসসিসি ময়লার গাড়ির ধাক্কায় নাঈম হাসান (১৭) নামে নটরডেম কলেজের এক শিক্ষার্থী মারা যান। ওই গাড়ির মূল চালক ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের চালক ইরান মিয়া। তার কাছ থেকে নিয়ে তা চালাচ্ছিলেন পরিচ্ছন্নতাকর্মী মো. হারুন। হারুন আবার গাড়িটি চালাতে দিয়েছিলেন রাসেলকে, যিনি কয়েক বছর আগে সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীর চাকরি থেকে বহিস্কৃত হয়েছিলেন। নাঈমকে চাপা দেওয়ার পরপরই রাসেলকে আটক করা হয়। পরে নাঈমের মৃত্যুর মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয় তাকে। 

ওই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতে  গত ২৫ নভেম্বর রাজধানীর পান্থপথে বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্সের সামনে ঢাকা উত্তর সিটির ময়লার গাড়ির ধাক্কায় মৃত্যু হয় আহসান কবীর খান নামের এক মোটরসাইকেল আরোহীর, যিনি গার্মেন্ট এক্সেসরিজের ব্যবসা করতেন। ওই গাড়িটি চালাচ্ছিলেন মো. হানিফ নামের একজন মেকানিক, যাকে পরে চাঁদপুর থেকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

এদিকে নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাজধানীজুড়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। ​