একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক, দ্য ফিন্যান্সিয়াল হেরাল্ড সম্পাদক ও প্রকাশক রিয়াজ উদ্দিন আহমেদের জানাজা জাতীয় প্রেস ক্লাব চত্বরে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার সকাল ১১টার দিকে অনুষ্ঠিত জানাজায় উপস্থিত ছিলেন শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন, সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান, নোয়াব সভাপতি এ. কে. আজাদ, সহসভাপতি এ এস এম শহীদুল্লাহ খান, সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, সম্পাদক পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও বণিক বার্তা সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ প্রমুখ।

জানাজা শেষে বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনসহ বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তিবর্গের পক্ষ থেকে রিয়াজ উদ্দিন আহমেদের কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। সমকালের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বে সমকাল পরিবারের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

জানাজার আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন, সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান, সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ, নোয়াব সভাপতি এ. কে. আজাদ, সম্পাদক পরিষদ সভাপতি মাহফুজ আনাম, রিয়াজউদ্দিন আহমেদের ছেলে মাশরুর রিয়াজ।

এ সময় রিয়াজ উদ্দিন আহমেদের ভাই কর্নেল (অব.) জয়নুল আবেদীন উপস্থিত ছিলেন। প্রেস ক্লাবে জানাজা শেষে হেলিকপ্টারে করে তার মরদেহ নেওয়া হয় জন্মস্থান নরসিংদীর মনোহরদীতে। পরে মনোহরদী উপজেলার নারান্দী চীন মৈত্রী কেন্দ্রের সামনে শরাফত আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে বাদ জোহর আরেকটি জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় এলাকার শত শত মানুষ অংশ নেন। পরে হেলিকপ্টারে করে মরদেহ রাজধানীর বনানীতে নেওয়া হয়। সেখানেই মায়ের কবরের পাশে তার মরদেহ দাফন সম্পন্ন হয়। 

রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ শনিবার রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর। তিনি করোনা-পরবর্তী জটিলতায় ভুগছিলেন।

১৯৬৮ সালে পাকিস্তান অবজারভার পত্রিকায় যোগদানের মধ্য দিয়ে সাংবাদিকতা শুরু করেন রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ। ইংরেজি সাংবাদিকতায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা এই খ্যাতিমান সাংবাদিক প্রায় ৫০ বছরের সাংবাদিকতা জীবনে দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের প্রধান সম্পাদক, দি নিউজ টুডে সম্পাদক ও প্রকাশক, ডেইলি টেলিগ্রাফ সম্পাদক, ডেইলি স্টারের উপ-সম্পাদক ছিলেন। রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার তথ্য উপদেষ্টা ছিলেন কিছু দিন। ছাত্রজীবনে তিনি প্রথমে ছাত্রলীগ ও পরে বাংলা ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতা ছিলেন।

তিনি জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, অবিভক্ত ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, বিএফইউজের সভাপতি, মহাসচিব, সার্কভুক্ত দেশগুলোর সাংবাদিকদের ফেডারেশন সমন্বয়ে গড়া দক্ষিণ এশিয়া সাংবাদিক সমন্বয় পরিষদের চেয়ারম্যান এবং সাউথ এশিয়ান ফ্রি মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ছিলেন।