রাজধানীর গুলিস্তানে হানিফ ফ্লাইওভারের টোলপ্লাজার সামনে দুই পথচারীকে চাপা দেওয়ায় অভিযুক্ত মেঘলা পরিবহনের চালক রাকিব শরীফের বাস চালানোর বৈধ কোনো লাইসেন্স ছিল না। তিনি হালকা যানের ড্রাইভিং লাইসেন্স নিয়ে বাসের মতো ভারী যান চালাচ্ছিলেন।

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) হাতে গ্রেপ্তারের পর চালক রাকিব নিজেই এ তথ্য দেন। শনিবার রাতে র‌্যাব-৩ এর একটি দল তাকে রাজধানীর ওয়ারী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে।

এর আগে শনিবার সকালে হানিফ ফ্লাইওভারের টোলপ্লাজার সামনে ওই বাসের চাপায় শেখ ফরিদ (২৮) এবং মো. বাদশা মিয়া (৩২) নামে দুই পথচারী নিহত হন। একই ঘটনায় আরও অন্তত ১২ জন আহত হন। তাদের মধ্যে ছয়জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

শনিবারের ওই ঘটনায় নিহত একজনের স্বজন ওয়ারী থানায় সড়ক ও পরিবহন আইন ২০১৮ এর ৯৮ ও ১০৫ ধারায় মামলা করেছেন।

রোববার সকালে মেঘলা বাসের চালককে গ্রেপ্তারের তথ্য জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন র‌্যাবের কর্মকর্তারা। রাজধানীর কারওয়ান বাজারে সংস্থাটির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত ওই সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের লিগ্যার অ্যান্ড মিডিয়া সেন্টারের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানান, দুর্ঘটনার পর চালক বাসটি রেখে পালিয়ে যান। এরপর ঘটনাটিতে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হওয়ায় ছায়াতদন্ত শুরু করে র‌্যাব। এরই ধারাবাহিকতায় ওয়ারী এলাকা থেকে রাকিব শরীফকে (২৫) গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চালক ওই দুর্ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে স্বীকার করেছেন।

রাকিবের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য উল্লেখ করে কমান্ডার মঈন বলেন, রাকিব শরীফ সাত থেকে আট বছর আগে থেকে মেঘলা পরিবহনে বাসে হেলপারি করতেন। হেলপারি করার পাশাপাশি তিনি ড্রাইভিংয়ের প্রশিক্ষণ নেন। পরে হেলপারি ছেড়ে দিয়ে বাস চালানোর জন্য মেঘলা পরিবহনের বিভিন্ন মালিকদের ড্রাইভার হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। কিন্তু তার কোনো বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকায় প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো মালিক তাকে গাড়ি চালানোর অনুমতি দেননি। পরে তিনি তদবির করে সাময়িকভাবে গাড়ি চালানো শুরু করেন। ২০১৯ সালে তিনি হালকা মোটরযান ড্রাইভিং লাইসেন্স (পেশাদার) প্রাপ্ত হন। সেই হালকা মোটরযান ড্রাইভিং লাইসেন্স দিয়েই তিনি ভারী যান চালানো শুরু করে দেন।

গ্রেপ্তার রাকিব শরিফ জানান, ১৫ দিন আগে মালিক সবুর মিয়ার কাছ থেকে দৈনিক দুই হাজার ২৫০ টাকা হারে বাসটি ভাড়ায় চালানো শুরু করেন রাকিব শরিফ। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার সকালে বাসটি নিয়ে ভূলতা গাউছিয়া থেকে গুলিস্তানের উদ্দেশে ছেড়ে আসেন। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে হানিফ ফ্লাইওভার দিয়ে গুলিস্তান সংযোগে নামার সময় বাসটির অধিক গতি থাকার কারণে এবং ব্রেক কাজ না করায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। এতে রাস্তার বাম পাশে আইলেনের সঙ্গে ঘেঁষে নামতে থাকে বাসটি। তখন ফ্লাইওভারে অন্য একটি বাস থেকে যাত্রী নামছিল। সেখানেই গিয়ে ধাক্কা দেয় মেঘলা বাসটি।

রাকিব আরও জানান, মালিককে দৈনিক চুক্তিভিত্তিক ভাড়া পরিশোধ করতে হওয়ায় বেশি টাকা আয় করতে হয়। ট্রিপ সংখ্যা বাড়ানোর জন্য প্রতিযোগিতা করে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালাতে হয়। অধিক গতি থাকার কারণে ফ্লাইওভার দিয়ে নামার সময় গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে বলেও জানান তিনি।