প্রায় ২২ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে স্বর্ণ চোরাকারবারি কথিত ব্যবসায়ী মনির হোসেন ওরফে গোল্ডেন মনিরের বিরুদ্ধে মামলা করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল রোববার এই মামলার অনুমোদন দিয়েছে কমিশন। অনুসন্ধান কর্মকর্তা উপপরিচালক মামুনুর রশীদ চৌধুরী আজকালের মধ্যে মামলাটি করবেন।

দুদকের অনুসন্ধানে গোল্ডেন মনিরের নামে স্থাবর-অস্থাবর মিলিয়ে মোট ২১ কোটি ৮২ লাখ ৭৩ হাজার ৪৫৯ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ মিলেছে। এ ছাড়া গোল্ডেন মনিরের নামে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) বরাদ্দ দেওয়া ৩৪টি ও তার স্ত্রী রওশন আক্তারের নামে সাতটিসহ মোট ৪১টি প্লটেরও সন্ধান পাওয়া গেছে। তবে কমিশনের অনুমোদন দেওয়া এ মামলায় প্লটগুলোর মূল্য যুক্ত করা হয়নি। কারণ অনুসন্ধানের সময় দেখা গেছে, প্লটগুলোর মূল্য বর্তমান বাজারমূল্যের চেয়ে অনেক কম ধরা আছে। তাই তদন্তকালে বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় এগুলোর বাজারমূল্য নির্ধারণ করা হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনুসন্ধানে যুক্ত দুদকের একজন কর্মকর্তা সমকালকে জানান, প্লটগুলোর বাজারমূল্য নির্ধারণ করা হলে গোল্ডেন মনির ও তার স্ত্রীর সম্পদ ১০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। প্লটগুলোর মূল্য সম্পর্কিত তথ্য মামলার চার্জশিটে উল্লেখ করা হবে।

মামলা হওয়ার পর রাজউক থেকে তারা কীভাবে ৪১টি প্লট বরাদ্দ পেলেন- তাও অনুসন্ধান করে দেখবে দুদক। কারণ, আইন অনুযায়ী রাজউকের আওতাধীন এলাকায় যার জমি নেই, তিনিই একটি প্লট পাবেন। যাদের জমি আছে, তাদের নামে প্লট বরাদ্দ দেওয়ার সুযোগ নেই। জমি নেই এমন একজন ব্যক্তির নামে কোনোভাবেই একাধিক প্লট বরাদ্দ দেওয়ার বিধান নেই। এ ক্ষেত্রে গোল্ডেন মনির ও তার নামে কীভাবে ৪১টি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হলো- এ নিয়ে আলাদা অনুসন্ধানে নামবে দুদক। এই পর্যায়ে যাদের বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও দুর্নীতির তথ্য পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে আলাদা মামলা করা হবে।

দুদকের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গত বছরের ২ মার্চ গোল্ডেন মনিরের দেওয়া সম্পদ বিবরণী অনুযায়ী, ২০০৯ সালের ১৮ জুনের পর অর্জিত জমি, প্লট, ফ্ল্যাট, বাড়ি কিনে তিনি দুই কোটি ৯৮ লাখ ৯৭ হাজার ৮৩০ টাকার স্থাবর সম্পদ অর্জন করেন। বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার, প্লট কেনায় বিনিয়োগ, রাজউক কর্মচারী বহুমুখী সমবায় সমিতিতে বিনিয়োগ, সিরাজ মিয়া মেমোরিয়াল মডেল স্কুলে বিনিয়োগ ও অনুদান, ঘড়ি, আসবাবপত্র ও ইলেকট্রনিকস সামগ্রী ক্রয়, ঋণ প্রদান ও বিভিন্ন ব্যাংকে স্থিতিসহ তার অস্থাবর সম্পদ ৪৪ কোটি ৩৬ লাখ ৪৫ হাজার ৬৮৩ টাকার। স্থাবর-অস্থাবর মিলে তার মোট সম্পদ ৪৭ কোটি ৩৫ লাখ ৪৩ হাজার ৫১৩ টাকার।

অনুসন্ধানে গোল্ডেন মনিরের নামে দায়দেনাসহ মোট ৩৩ কোটি ৯৫ লাখ ২৪ হাজার ৭৪২ টাকা আয়ের উৎস পাওয়া গেছে। অসাধু উপায়ে অর্জিত এবং জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ মোট ৫৫ কোটি ৭৭ লাখ ৯৮ হাজার ২০১ টাকার সম্পদের প্রমাণও মিলেছে। এই হিসাব অনুযায়ী, গোল্ডেন মনিরের নামে সর্বমোট ২১ কোটি ৮২ লাখ ৭৩ হাজার ৪৫৯ টাকা মূল্যের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ পাওয়া গেছে।

দুদকের সূত্রমতে, ওই পরিমাণ জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করে তিনি দুদক আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। এই ধারায় তার বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।

দুদকের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গোল্ডেন মনিরের সম্পদ বিবরণীতে প্লট-সম্পর্কিত প্রকৃত তথ্য গোপন করে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য দেওয়া হয়েছে।

এর আগে রাজউক প্রধান কার্যালয় থেকে প্লটের ৭০টি ফাইল সরিয়ে সরকারি সম্পত্তি আত্মসাতের চেষ্টার অভিযোগে গোল্ডেন মনিরসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে গত ৪ জানুয়ারি পৃথক একটি মামলা করেছে দুদক। এবার তার বিরুদ্ধে মামলা করা হচ্ছে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে।