রাজধানীর খিলক্ষেতের একটি বাসা থেকে মোছা. পাপিয়া (১১) নামে এক শিশু গৃহকর্মীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায় পুলিশ। তার মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

খিলক্ষেত থানার ওসি মুন্সী সাব্বির আহমেদ সমকালকে বলেন, পাপিয়ার শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। শুধু গলায় ফাঁস দেওয়ার চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কোনো কারণে শিশুটি আত্মহত্যা করে থাকতে পারে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে এ ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর (ইউডি) মামলা হয়েছে।

পুলিশ সূত্র জানায়, খিলক্ষেতের লেকসিটি কনকর্ড এলাকার বাসন্তী ভবনের ১০ তলার একটি ফ্ল্যাটে দুই বছর ধরে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করে আসছিল পাপিয়া। সে ওই বাসার একমাত্র বাসিন্দা এক বৃদ্ধার দেখাশোনা করত। আর তার মা সেখানকার অন্যান্য কাজ করে দিতেন। বুধবার শিশুটিকে ডাকতে গিয়ে কোনো সাড়া না পেয়ে বৃদ্ধার সন্দেহ হয়। তখন ঘরের দরজা বন্ধ ছিল। পরে তিনি ভবনের নিরাপত্তাকর্মীদের ডাকেন। তারা এসে দরজা ভেঙে শিশুটিকে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ঝুলতে দেখেন। ততক্ষণে শিশুটির মা'ও চলে আসেন। এরপর পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর লাশ মর্গে পাঠায়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃদ্ধার ছেলে ওই ফ্ল্যাটটি ভাড়া নেন। তবে তিনি পেশাগত কারণে চট্টগ্রাম অঞ্চলে থাকেন। বৃদ্ধার আত্মীয়-স্বজনরা মাঝেমধ্যে এসে তাকে দেখে যেতেন। শিশু পাপিয়া তার সঙ্গেই থাকত। কয়েকদিন ধরে মায়ের সঙ্গে শিশুটির ঝগড়া চলছিল। তবে ঝগড়ার কারণ জানা যায়নি।