করোনা সংক্রমণ রোধে সরকারি নির্দেশনা মেনে অর্ধেক সিট খালি রেখে নয়, যত আসন তত যাত্রী নিয়ে বাস চালাতে চান মালিকরা। 

দাবি না মানলে পরিবহন সঙ্কটে যাত্রী ভোগান্তি এবং বাস চলাচল বন্ধ হতে পারে বলেও সরকারকে সতর্ক করেছেন তারা। যাত্রীদের রোষানল এড়াতে ভাড়া বৃদ্ধি চান না মালিকরা।

অন্যদিকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অফিস আদালত সব খোলা রেখে অর্ধেক আসন খালি রেখে বাস চললে তীব্র পরিবহন সঙ্কট হবে— এ যুক্তিতে মালিকদের দাবি আমলে নিয়ে সরকারি নির্দেশনা পুনর্বিবেচনার প্রস্তাব দেবে সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।

বুধবার রাজধানীর বনানীতে পরিবহন মালিক শ্রমিক, পুলিশ ও ভোক্তা প্রতিনিধিদের সঙ্গে বিআরটিএর বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত হয়েছে। 

তবে বিআরটিএ চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মজুমদার বৈঠকের পর ব্রিফিংয়ে জানান, ভাড়া না বাড়িয়ে আগামী শনিবার থেকে অর্ধেক যাত্রী নিয়ে বাস চলবে। তবে তিনি এও বলেছেন, মালিকদের দাবি যৌক্তিক। তাই যত সিট তত যাত্রী নিয়ম করতে সরকারের কাছে আবেদন করা হবে।

মালিকরা বৈঠকে বলেছেন, ডিজেলের দাম বাড়ায় দুই মাস আগে বাসে ভাড়া বেড়েছে। অর্ধেক আসন খালি রাখলে আবার ভাড়া বাড়াতে হবে। করোনা পরিস্থিতিতে যাত্রীদের কাছ থেকে নেওয়া সম্ভব নয়। অর্ধেক আসন খালি রাখার নির্দেশনা বদল না হলে সরকারকেই ভর্তুকি দিতে হবে।

রাজধানীতে বাসের সংখ্যা সোয়া ছয় হাজার। তবে দৈনিক গড়ে সাড়ে চার থেকে পাঁচ হাজার বাস চলাচল করে। 

বৈঠকে পুলিশ প্রতিনিধি বলেন, সকালে ও বিকেলে অফিস শুরু ও ছুটির সময়ে বাস সঙ্কট থাকে। সেই সময়ে অর্ধেক আসন খালি রাখার নির্দেশনা বাস্তবায়ন প্রায় অসম্ভব। এতে পরিবহন সঙ্কটে যাত্রী ভোগান্তি হবে। মালিকরা একই মত দেন।

বিআরটিএ চেয়ারম্যান বলেছেন, পরিবহন সঙ্কটের বিষয়টি বৈঠকে আলোচিত হয়েছে। সবাই একমত হয়েছেন, যেহেতু অফিস আদালত সব খোলা— তাই পরিবহন সঙ্কট হবে। 

তাই সবাই একমত হয়েছেন, স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মেনে যত সিট তত যাত্রী পরিবহন করলেও জনদুর্ভোগ হবে না। আবার ভাড়াও বৃদ্ধি করতে হবে না। আবার অর্ধেক আসন খালি রাখতে ভাড়া বাড়ালে যাত্রীদের ভোগান্তি হবে। তাই দাবি এসেছে অর্ধেক আসন খালি রাখার শর্ত শিথিল করার।

গত ১০ জানুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী, করোনার টিকা নেওয়া থাকলে তবেই বাস চালাতে পারবেন চালক শ্রমিকরা। 

নুর মোহাম্মদ মজুমদার বলেছেন, শত ভাগ চালক শ্রমিক টিকা নেননি। মালিকরা শ্রমিকদের দ্রুত টিকা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। এ দাবিও সরকারকে বুধবারই জানিয়ে দেওয়া হবে।

বিআরটিএ সূত্র জানিয়েছে, মন্ত্রিসভার নির্দেশনার বাধ্যবাধকতার কারণেই শনিবার থেকে বিদ্যমান ভাড়ায় অর্ধেক যাত্রী নিয়ে বাস চালানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। তবে বিআরটিএ চেয়ারম্যান বলেছেন, বাস্তবতাও বিবেচনায় নিতে হচ্ছে। সরকারকে বাস্তবতা জানানো হবে।

সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি মসিউর রহমান রাঙ্গাঁ ব্রিফিংয়ে বলেছেন, যাত্রীরা মালিকদের লক্ষ্মী। তাদের দিকও দেখতে হবে। তেলের দাম বাড়ায় ভাড়া এমনিতেই বেড়েছে। আবার ভাড়া বাড়িয়ে বারবার যাত্রীদের রোষানলে পড়তে চাই না। সরকারের কাছে অনুরোধ হলো, স্বাস্থ্যবিধি মেনে সব আসনে যাত্রী নিয়ে চলতে চাই। বিমান যেভাবে সব আসনে যাত্রী নিয়ে চলে, বাসও সেভাবে চালাতে চাই।

মসিউর রহমান রাঙ্গাঁ বলেছেন, কলকারখানা সব খোলা থাকলে যাত্রী তো কমবে না। এই অবস্থায় অর্ধেক সিট খালি রাখতে হলে বাস বাড়াতে হবে। যা সম্ভব নয়। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ হয়ত এ বিষয়টি খেয়াল করেনি। মন্ত্রিসভায় পরিবহনের কেউ থাকলে বিষয়টি তুলতে পারত।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব পরিবহন মালিকদের ‘ছাড়’ দেওয়ার অনুরোধ করেছেন। 

এ প্রসঙ্গে রাঙ্গাঁ বলেছেন, মালিকরা অনেক ছাড় দিয়েছেন। লকডাউনের সময় তিন মাস গাড়ি বন্ধ রেখেছেন। আগাম কর দিয়েছে। যা ফেরত পায়নি। তারপরও মালিকরা সরকারকে সহযোগিতা করতে চায়। ভাড়া না বাড়িয়েই বাস চালাতে চায়। প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিনীত অনুরোধ তিনি যেনো মালিকদের যৌক্তিক দাবি বিবেচনা করেন। দাবি বিবেচনা করলে ভালো। 

চালক শ্রমিকদের শতভাগ টিকার ব্যবস্থা না হলে তারা গাড়ি চালাতে পারবে না। এই বক্তব্য গাড়ি বন্ধের হুমকি কিনা— এ প্রশ্নে রাঙ্গাঁ বলেন, মালিকরা ধর্মঘট করতে চান না। সব স্বাভাবিক রাখতে চান।

বৈঠকে অংশ নেওয়া মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ সমকালকে বলেছেন, সব খোলা রেখে বাসে অর্ধেক যাত্রী পরিবহন কীভাবে সম্ভব! মানুষ কী হেঁটে যাবে। এ কথাগুলোই সরকারকে জানাতে বিআরটিএকে বলা হয়েছে। খন্দকার এনায়েত আশা করছেন, শনিবারের আগে সরকার তাদের দাবি মেন শর্ত শিথিল করবে।