রাজধানীর হাতিরঝিল সংলগ্ন এফডিসি মোড় এলাকায় হেঁটে রাস্তা পার হচ্ছেন একদল মানুষ। তাদের শুধু একজনের মুখে ছিল মাস্ক। আরেকজনের মুখে মাস্ক থাকলেও তা ঝুলছিল থুতনিতে। করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে বিধিনিষেধের প্রথম দিনে বৃহস্পতিবার বিকেলে দেখা গেছে এমন চিত্র। কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট, মগবাজার ও শাহবাগসহ রাজধানীর অন্যান্য এলাকাতেও দিনভর দেখা গেছে প্রায় একই চিত্র। এরমধ্যে মাস্ক পরা নিশ্চিত করতে শাহবাগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। আড়াই ঘণ্টার অভিযানে ১১ জনকে জরিমানা এবং ২০ জনের কাছ থেকে মাস্ক পরার লিখিত অঙ্গীকারনামা নেওয়া হয়।

ডিএমপির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সঞ্জীব দাশ সমকালকে বলেন, মাঝে বেশ কিছুদিন মানুষ কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে ছিল না। নতুন করে আবার তা মানায় অভ্যস্ত হতে একটু সময় লাগবে। এই বিবেচনায় প্রথম দিন অনেকটা নমনীয় অবস্থানেই ছিল পুলিশ। আগের মতোই লোকজন মাস্ক না পরার নানা অজুহাত দেখিয়েছেন। সেসব বিবেচনা করে ও আর্থিক সক্ষমতা অনুযায়ী ন্যূনতম ৫০ টাকা থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হয়। এতে সকাল ১১টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত মোট জরিমানার পরিমাণ দাঁড়ায় ২ হাজার ৫৫০ টাকা। মাস্ক না পরা আরও ২০ জনকে জরিমানার আওতায় আনা হয়নি। তবে তারা লিখিত অঙ্গীকারনামা দিয়েছেন যে, এরপর তারা মাস্ক ছাড়া বের হবেন না।

পুলিশ সূত্র জানায়, প্রথম দিন মূলত নগরবাসীকে সচেতন করতে চাওয়া হয়েছে। তবে ধীরে ধীরে মাস্ক পরা নিশ্চিত করতে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার দেখা গেছে, তরুণদের মধ্যেই মাস্ক না পরার প্রবণতা বেশি। কারণ জানতে চাইলে তারা বলছেন, তাড়াহুড়োয় মাস্ক নিতে ভুলে গেছেন, পথে হারিয়ে ফেলেছেন বা ছিঁড়ে যাওয়ার কারণে ফেলে দিয়েছেন। তবে তাদের বেশিরভাগের অজুহাত ছিল ঠুনকো। প্রকৃতপক্ষে করোনা সংক্রমণ ঊর্ধ্বগামী হলেও তাদের মধ্যে এটা নিয়ে সচেতনতা নেই।

ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ শাখার উপকমিশনার ফারুক হোসেন সমকালকে বলেন, করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে সরকারি বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে কাজ করছে পুলিশ। ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের পাশাপাশি মানুষকে সচেতন করতে প্রচারও চালানো হচ্ছে। কারণ মানুষ সচেতন না হলে শুধু জরিমানা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে না। এ জন্য রাজধানীর ৫০ থানা এলাকায় আলাদা টিম মানুষকে মাস্ক পরতে ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে উৎসাহিত করছে।

এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে মহাখালী বাস টার্মিনাল এলাকায় সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালায় ট্রাফিক গুলশান বিভাগ। এ সময় দূরপাল্লার বাসের চালক, সুপারভাইজার, হেলপার ও যাত্রীদের মধ্যে করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে করণীয় বিষয়ে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি পুলিশ সদস্যরা সবার হাতে তুলে দেন হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও মাস্ক। ট্রাফিক গুলশান বিভাগের সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ আশফাক আহমেদের নেতৃত্বে চলে এ কার্যক্রম।