রাজধানীর মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান ও বেড়িবাঁধ এলাকায় নানা অপকর্মে জড়িত কিশোর গ্যাং 'কিং অব মোচর' ও 'ভাইব্বা ল কিং' গ্রুপ। শেষের গ্রুপটি নিজেদের এলাকায় সিনিয়র দাবি করে। কিন্তু তা মানতে নারাজ কিং অব মোচর গ্রুপ। এই নিয়ে মাঝেমধ্যেই নিজেদের মধ্যে হয় হানাহানি। যাতে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী। এই দুই গ্রুপের মারামারিতে আহত হয় সাধারণ মানুষও।

সর্বশেষ গত রোববার সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্বের জেরে এই দুই গ্রুপের সংঘাতে চাঁদ উদ্যান এলাকায় আহত হন কয়েকজন পথচারী। তাদের একজন আল আমিন নামে এক তরুণকে ভর্তি করা হয় হাসপাতালে। ওই ঘটনায় জড়িত দুই গ্রুপের ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। সোমবার দুপুরে মোহাম্মদপুরের বিভিন্ন এলাকায় র‌্যাব-৩ এর একটি দল এই অভিযান চালায়।

গ্রেপ্তার ৬ জন হলো- মো. হৃদয়, মো. রাসেল, মো. শাওন, মো. তাওহীদ, মো. রাসেদ এবং খাইরুল ইসলাম। র‌্যাব জানিয়েছে, তাদের বয়স ১৯ থেকে ২২ বছরের মধ্যে।

র‌্যাব-৩ এর অপারেশন্স ও গোয়েন্দা শাখার সহকারী পুলিশ সুপার ফারজানা হক বলেন, এই দুটি কিশোর গ্যাং শুধু নিজেদের মধ্যেই সংঘাতই নয়, এলাকায় ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মাদকের কারবারসহ নানা ধরনের সন্ত্রাসী কাজে জড়িত।

তিনি জানান, এরা মোটরসাইকেলে চড়ে রিকশা, ভ্যান, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও বাস যাত্রীদের টার্গেট করে ব্যাগ ও পার্টস ছিনতাই করে থাকে। তারা স্থানীয় লালতলা তিন রাস্তার মোড়ে দলবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে মাদক সেবনসহ উশৃঙ্খল আচরণ করে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে আসছিল। চক্রের অপর সদস্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

গত রোববার চাঁদ উদ্যান এলাকায় নিজেদের মধ্যে মারামারির বিষয়ে গ্রেপ্তার ওই ছয়জন র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, ওইদিন 'কিং অব মোচর' গ্রুপের দুই সদস্যের জন্মদিন ছিল। এজন্য তারা চাঁদ উদ্যান এলাকায় কনসার্টের আয়োজন করতে চেয়েছিল। প্রস্তুতির সময়ে 'ভাইব্বা ল কিং' গ্রুপের সদস্যরা পুরনো দ্বন্দ্বের জেরে তাতে বাঁধা দেয়। এটা নিয়ে তাদের মধ্যে ওইদিন সংঘাত হয়েছিল।

র‌্যাব কর্মকর্তারা জানান, ওইদিন নিজেদের সংঘাতের সময়ে দুটি গ্রুপই ক্ষিপ্ত হয়ে পথচারীদের ওপর এলোপাতাড়ি আক্রমণ করে। এতে পথচারী আলআমিন গুরুতর আহত হন। ওই দিনের ঘটনা ছাড়াও চক্রটি সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্ব ও তা নিয়ে আধিপত্য বিস্তারের জন্য দলবদ্ধভাবে মোটরসাইকেলের মহড়া দিয়ে এলাকায় ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে থাকে। তাদের উচ্ছৃঙ্খল আচরণে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ ছিল।

র‌্যাব আরও জানায়, 'কিং অব মোচর' গ্যাংয়ের দলনেতা হচ্ছে রাশেদ। তার দুর্ধষতা এবং ক্ষিপ্রতার জন্য সে এলাকায় টাইগার রাশেদ নামে পরিচিত। দুটি গ্রুপের প্রত্যেকটিতেই ২৫ থেকে ৩০ জন করে সদস্য রয়েছে। গত বছরের নভেম্বরে 'ভাইব্বা ল কিং' গ্যাংয়ের ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছিল র‌্যাব। কিন্তু জামিনে বেরিয়ে একই অপরাধে জড়িয়েছে তারা।