দৈনিক সময়ের আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক হাবীব রহমানের মৃত্যু ঘিরে তার স্বজন ও সহকর্মীদের নানারকম সন্দেহ রয়েছে। সেই সব বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে পুলিশ। 

এদিকে এখন পর্যন্ত একজন প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য ছাড়া এ ঘটনা সম্পর্কে তদন্ত-সংশ্নিষ্টদের কাছে আর কোনো তথ্য-উপাত্ত নেই। এমনকি ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজও পাওয়া যায়নি।

ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল জোনের জ্যেষ্ঠ সহকারী কমিশনার আশিক হাসান সমকালকে বলেন, ওই এলাকার সবগুলো সিসিটিভি ক্যামেরা নষ্ট। ফলে ভিডিও ফুটেজ মেলেনি। তবে সার্বিকভাবে মনে হয়েছে, মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তিনি দুর্ঘটনায় পড়েন। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হাবীবকে মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর হাতিরঝিল থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর তাকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় হাতিরঝিল থানায় অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা হয়েছে।

মৃতের স্বজন ও সহকর্মীরা বলছেন, হাবীবের মৃত্যু নিছক দুর্ঘটনাজনিত নাও হতে পারে। কারণ দুর্ঘটনা হলে তার হাতে-পায়ে আঘাত থাকার কথা। অথচ শুধু তার মুখমণ্ডলটাই থেঁতলে গেছে। হেলমেট পরা থাকার পরও তার মাথায় এমন মারাত্মক আঘাত লাগা সন্দেহজনক। তাছাড়া প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা হলে তার মোটরসাইকেলটিও দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়ার কথা। অথচ মোটরসাইকেলে তেমন বড় আঘাতের চিহ্ন নেই। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

তদন্ত সূত্র জানায়, ঘটনাটির একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন মো. রাসেল। রাত আড়াইটার দিকে তিনি মোটরসাইকেল আছড়ে পড়ার মতো শব্দ পেয়ে এগিয়ে যান। তিনি রাস্তার পাশে মোটরসাইকেল এবং কিছুটা দূরে হাবীবকে পড়ে থাকতে দেখেন। তখনও তিনি বেঁচে ছিলেন। দ্রুত তাকে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। পাশাপাশি তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশি সহায়তা চান।

স্ত্রী হাসি আক্তার ও আড়াই বছরের ছেলেকে নিয়ে হাতিরঝিল সংলগ্ন মধুবাগ এলাকায় থাকতেন হাবীব। বুধবার রাতে গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ার শশিদল ইউনিয়নের মানোরা গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে তার লাশ দাফন করা হয়।