অভিনেত্রী রাইমা ইসলাম শিমু হত্যায় গ্রেপ্তার তার স্বামী সাখাওয়াত আলীম নোবেল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে শুরুতে বলে আসছিলেন- তিনি একাই শ্বাসরোধে খুন করেন। আর লাশ গুম করতে তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু এসএমওয়াই আব্দুল্লাহ ফরহাদকে ডেকে নেন। তবে শেষ পর্যন্ত দিয়েছেন ভিন্ন তথ্য।

তিনি জানিয়েছেন, একাকী নন; হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেন ফরহাদও। দু'জন মিলে হত্যা মিশন শেষ করে লাশ গুম করেন। বৃহস্পতিবার আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি ও পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে নোবেল ও ফরহাদ নতুন তথ্য দেন। নতুন এ তথ্যের পর তদন্তের মোড়ও ঘুরে গেল। একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

কেন, কী কারণে শিমুর সঙ্গে দাম্পত্য কলহ ও ঘটনার দিন কী নিয়ে ঝগড়ার সূত্রপাত- জবানবন্দিতে সে তথ্যও উঠে এসেছে। স্ত্রী মোবাইল ফোনে কার সঙ্গে কথা বলেন, কোথায় যান- তা নিয়ে প্রতিনিয়ত সন্দেহ করতেন নোবেল। গত রোববার সকালে হঠাৎ স্ত্রীর ফোন দেখতে চান নোবেল। কে কল করল, তা দেখতে চান। এতে বাধা দেন শিমু। এ নিয়ে দু'জনের মধ্যে তুমুল ঝগড়া হয়।

একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। ওই দিন সকাল ৮টার দিকে নোবেলের বাসায় যান ফরহাদ। আগে থেকেই কথা ছিল, টাকা ধার নিতে ওই সময় বন্ধুর বাসায় যাবেন তিনি। ফরহাদ যাওয়ার পর ফ্ল্যাটের দরজাও খুলে দেন শিমু। এর পর তারা ডাইনিং টেবিলে বসে চা খান। কিছু সময় পর শিমুর ফোন দেখা নিয়ে স্বামী-স্ত্রী বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়ালে ফরহাদ তা থামানোর চেষ্টা করেন। উত্তেজিত হয়ে নোবেল স্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, 'আজ তোকে শেষ করে দেব।' এর পর শিমুকে হত্যা করতে ফরহাদের সহায়তা চান নোবেল। বন্ধুর আহ্বানে সাড়া দিয়ে দু'জনে মিলে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। তদন্ত-সংশ্নিষ্টরা বলছেন, সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে শিমুকে হত্যা করা হয়।

রাজধানীর গ্রিন রোডের বাসায় শিমুকে হত্যার পর বন্ধু ফরহাদকে নিয়ে কেরানীগঞ্জে মরদেহ ফেলে আসেন নোবেল। এর পর কলাবাগান থানায় নিখোঁজের ডায়েরি করেন। মঙ্গলবার নোবেল ও ফরহাদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতের মাধ্যমে তিন দিনের রিমান্ডে পায় পুলিশ। রিমান্ডের এক দিন পার হওয়ার পরই তারা আদালতে স্বীকারোক্তি দিলেন।

এদিকে শিমুর স্বজনের ভাষ্য, নোবেল মাদকে আসক্ত ছিলেন। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদেও নিয়মিত মাদক সেবনের কথা তিনি স্বীকার করেছেন। শিমুর ভাই শহিদুল ইসলাম খোকন সমকালকে বলেন, নোবেল মাদকে আসক্ত, তা আমরা জানতাম। বাসার আন্ডারগ্রাউন্ডে তার আড্ডাস্থল ছিল।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কেরানীগঞ্জ মডেল থানার এসআই চুন্নু মিয়া বলেন, শিমুর লাশ প্রথমে মিরপুরে গুম করার পরিকল্পনা ছিল। কয়েক ঘণ্টা ঘুরে গুম করার পরিবেশ না পেয়ে কেরানীগঞ্জে নিয়ে যাওয়া হয়।
জানা যায়, রোববার সকালে নোবেল ও ফরহাদ গাড়িতে মরদেহ নিয়ে মিরপুরে তাদের আরেক বন্ধু গনির কাছে যান। তিন বন্ধু মিলে সবাইকে ফোন করে শিমুর নিখোঁজ হওয়ার গল্প ফাঁদেন। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গনিকেও খোঁজা হচ্ছে।

বিষয় : অভিনেত্রী শিমু হত্যা

মন্তব্য করুন