পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির সাবেক চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ (৫৬) গত সোমবার রাজধানীর একটি হাসপাতালে মারা যান। মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর পল্টনে স্বজনরা তার নামাজে জানাজার আয়োজন করেন। সে প্রস্তুতিও ছিল শেষের দিকে। কিন্তু পুলিশ তাতে বাধ সাধে। জানাজা দেওয়ার আগেই মরদেহটি নিয়ে যায় পুলিশের একটি দল। পরে পাঠানো হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে।

পুলিশ বলছে, হাসান আহমেদকে হত্যা করা হয়েছে এমন অভিযোগ করেছেন তার ভাইয়েরা। এ নিয়ে হত্যা মামলাও হয়েছে। তাই বাধ্য হয়ে পুলিশ তার মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। যদিও হাসানের স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌসি দাবি করছেন, তার স্বামীর স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। সম্পতি আত্মসাৎ করতে এখন তার ভাইয়েরা মরদেহ নিয়ে রাজনীতি করছেন।

পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির সাবেক চেয়ারম্যান হাসান ওই প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক থাকা অবস্থায় মারা যান।  এছাড়া তিনি পিপলস ইন্স্যুরেন্সের পরিচালকেরও দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। পপুলার জুট মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালকও ছিলেন তিনি। দুই শিশু সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে থাকতেন পল্টন কালভার্ট রোড এলাকার অ্যাপার্টমেন্টে।

হাসানের স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌসি জানান, ২০২০ সালে তার স্বামী স্ট্রোক করে দীর্ঘদিন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। এরপর তার বাম হাত ও পা প্যারালাইজড হয়ে যায়। তখন থেকেই সম্পত্তি আত্মসাতের জন্য তার ছোট তিন ভাই ষড়যন্ত্র শুরু করে। আদালতে একাধিক মামলাও করে। সোমবার সন্ধ্যায় তার স্বামীর হার্ট অ্যাটাক হলে তারা দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। রাতে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করলে তারা ভাইয়েরা সম্পতির লোভে মরদেহ নিয়ে টানাটানি শুরু করে।

অবশ্য ছোট ভাই কবির আহমেদ দাবি করছেন, তার বড় ভাইকে স্ত্রী, শাশুড়ি, শ্যালক ও শ্যালিকাসহ তাদের লোকজন আটকে রেখেছিল। তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে হত্যা করেছে। মৃত্যুর খবর পেয়েও তারা হাসপাতালে ভাইয়ের কাছে যেতে পারেননি।

তিনি বলেন, এরপর পুলিশের কাছে অভিযোগ করে থানায় মামলা করতে চান। পুলিশ মামলা না নেওয়ায় মঙ্গলবার আদালতে মামলা করা হয়েছে।

পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাউদ্দিন মিয়া বলেন, ব্যবসায়ী হাসান আহমেদের মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড উল্লেখ করে তার ছোট ভাই আদালতে অভিযোগ দিয়েছেন। আদালত অভিযোগটি নিয়মিত মামলা আকারে নিয়ে থানায় নথিভুক্ত করার নির্দেশ দেন। এরপর মঙ্গলবার পল্টন থানায় সেটি হত্যা মামলা আকারে রেকর্ড করা হয়। এতে হাসান আহমেদের স্ত্রী, শাশুড়ি, দুই শ্যালক, শ্যালিকা ও তার স্বামীসহ মোট ৮ জনকে আসামি করা হয়। পুলিশ ঝামেলা এড়াতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে।

পল্টন থানা পুলিশের অপর একজন কর্মকর্তা জানান, বেলা দেড়টার দিকে আদালতের আদেশ থানায় পৌঁছে। এরপর হাসান আহমেদের বাসায় গিয়ে দেখা যায় তার মরদেহ জানাজার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু মরেদহ দাফন করলেও হত্যা মামলা হওয়ায় কবর থেকে উত্তোলন করে মর্গে পাঠাতে হতো। এজন্য জানাজা হওয়ার আগেই মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত শেষে পরিবাররের কাছে তা হস্তান্তর করা হবে।