মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা বলেছেন, জাতির পিতা বাংলাদেশে নারী উন্নয়ন ও নারীর ক্ষমতায়নের প্রকৃত পথ প্রদর্শক। তিনি সদ্যস্বাধীন দেশে নারীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য ১৯৭২ সালে নারী পুনর্বাসন বোর্ড গঠন করেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় নির্যাতিত নারীদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন করেন। সেখানে বঙ্গমাতার ছিল অসাধারণ ভূমিকা। বঙ্গমাতা নির্যাতিত নারীদের বিয়ের ব্যবস্থা করে, তাদের সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মর্যাদাসম্পন্ন আলোকিত জীবন দান করেন'।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর ইস্কাটনে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা ফজিলাতুন নেছা মুজিব এর ম্যুরাল এবং ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের টেরাকোটা উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা ১৯৭২ সালে যে নারী পুনর্বাসন বোর্ড গঠন করেন, সেই নারী পুনর্বাসন বোর্ডই আজকের মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর। এই অধিদপ্তর দেশের সকল উপজেলায় নিজস্ব অফিসের মাধ্যমে নারীদের প্রশিক্ষণ, সামাজিক নিরাপত্তা, সচেতন করা ও সুরক্ষা সেবা দিচ্ছে। এর ফলে নারীরা অর্থনৈতিক, সামাজিক, পারিবারিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে ক্ষমতায়িত হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা আরও বলেন, আজ মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরে আমরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব এর ম্যুরাল এবং ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের টেরকোটার উদ্বোধন করছি। এ অধিদপ্তরে প্রতিদিন অনেক সেবা প্রার্থী আসে। এ প্রজন্মের নারীরা স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী ও  মুজিববর্ষে স্থাপিত জাতির পিতা এবং বঙ্গমাতার ম্যুরালের মাধ্যমে, বাংলাদেশে নারীর উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নে জাতির পিতা এবং বঙ্গমাতার যে মহান অবদান, তা জানতে পারবে। এর মাধ্যমে নারীরা আত্মপ্রত্যয়ী হয়ে শিক্ষা,চাকুরি, রাজনীতি, ব্যবসা বাণিজ্যসহ উন্নয়নের সকল ক্ষেত্রে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত ২০৪১ সালের উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে ভূমিকা রাখবে।

মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ফরিদা পারভীনের সভাপতিত্বে এ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক সচিব ড. মু. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ড. মু. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশ সৃষ্টির ক্ষেত্রে জাতির পিতার যে অবদান, সেই ঋণ আমরা কখনো শোধ করতে পারবো না। এই অবদানকে আমাদের গভীর কৃতজ্ঞতায় স্মরণ ও অন্তর দিয়ে অনুধাবন করতে হবে।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ শিশু একাডেমির চেয়ারম্যান লাকী ইনাম, অতিরিক্ত সচিব ড. মহিউদ্দীন আহমেদ সহ মন্ত্রণালয়, দপ্তরসংস্থার বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।