যথাযথ জনবল ও ডাক্তার পদায়নের অভাবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) পরিচালিত হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়া যাচ্ছে বলে না মন্তব্য করেছেন মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস।

তিনি বলেন, ‘আমাদের দু'টো হাসপাতাল আছে ... মহানগর জেনারেল হাসপাতাল ও মহানগর শিশু হাসপাতাল। সেখানকার অবকাঠামোগত বিষয়াবলী আমাদের এবং সেগুলোর উন্নয়নে আমরা কাজ করছি। সেখানে সরকার হতেই প্রয়োজনীয় জনবল, ডাক্তারের (মেডিকেল কনসালটেন্ট) নিয়োগ ও পদায়ন করা হয়ে থাকে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের হাসপাতালগুলোর জন্য পর্যাপ্ত জনবল ও ডাক্তার পদায়ন করা হয় না।’

প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে সেবা বিঘ্নিত হওয়ার অভিযোগ স্বীকার করে নিয়ে মেয়র তাপস বলেন, ‘এটা অত্যন্ত দুঃখজনক যে, পর্যাপ্ত লোকবল ও ডাক্তারের অভাবে আমরা আমাদের মহানগর জেনারেল হাসপাতালের সার্জারি শাখাকে এখনো কার্যক্ষম (ফাংশনাল) করতে পারিনি।’ 

বৃহস্পতিবার রাজধানীর হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে প্রথম জাতীয় অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের প্রথম পর্বে যোগ দিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিশ্বের বায়ুর মান পর্যবেক্ষণকারী আন্তর্জাতিক সংস্থা এয়ার ভিজ্যুয়ালের হিসাবে ২০২০ সালের চেয়ে ২০২১ সালে ঢাকার বায়ুর মান ১২ শতাংশ খারাপ হয়েছে। 

২০২০ সালের তুলনায় ২০২১ সালে গড় বায়ুদূষণের পরিমাণ বেড়েছে ৯ দশমিক ৮ শতাংশ। অন্যদিকে ২০১৬ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ৫ বছরের থেকেও ২০২১ সালে গড় বায়ু দূষণের পরিমাণ বেড়েছে ৭ শতাংশ।

ঢাকার বায়ুমান নিয়ে শেখ তাপস বলেন, ‘বায়ু দূষণ শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত স্বাস্থ্য জটিলতার অন্যতম কারণ। আমরা এ বিষয়ে আমরা সজাগ আছি। কিন্তু দুভার্গ্যবশত ঢাকা বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহর। এই সমস্যা হতে উত্তরণে আমরা কাজ করছি। নগরবাসীর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় আরও পার্ক প্রতিষ্ঠা, প্রশস্ত ফুটপাত তৈরি, হাঁটার জায়গা সৃষ্টি করতে ইতোমধ্যে আমরা উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। নগরবাসীর জীবনমান উন্নয়নে আমরা সমন্বিত মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করছি।’

অনুষ্ঠানে শেখ ফজলে নূর তাপস জানান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন অসংক্রামক ব্যাধিজনিত অপরিপক্ক মৃত্যু হ্রাস করার মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কাজ করছে। 

সংক্রামক ব্যাধির চাইতে অসংক্রামক ব্যাধিতে মানুষের মৃত্যুর সংখ্যা অনেক বেশি উল্লেখ করে তাপস বলেন, ‘আমাদের দেশে দুই-তৃতীয়াংশ জনগোষ্ঠী অসংক্রামক ব্যাধির কারণে মারা যাচ্ছে। যেটাকে আমাদের জীবনের যে সীমা ৭২ বছর, ৭০ বছরের আগেই এ সকল অসংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে অপরিপক্ক অবস্থায় মারা যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘অসংক্রামক ব্যাধি প্রতিরোধ করতে হলে আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সরকারকে সহযোগিতা করতে হবে; যাতে ক্যন্সার, ডায়াবেটিসএবং উচ্চ রক্তচাপজনিত ব্রেইন স্ট্রোক ইত্যাদি অসংক্রামক ব্যাধি নির্মূল করা যায়, কমিয়ে আনা যায়। এর ফলে অপরিপক্ক যে মৃত্যু হচ্ছে তা আমরা কমিয়ে আনতে পারব এবং এর মাধ্যমে আমরা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারব।’

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের মহাপরিচালক ডা. মোহাম্মদ শাহাদাত হোসাইন মাহমুদ, সাবেক মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদ, ইন্টান্যাশনাল সোসাইটি ফর আরবান হেলথ (আইএসইউএইচ) এর প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক জো আইভি বাফর্ড, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এনসিডি টিম লিডার (ব্যাংলাদেশ) সাধনা ভাগওয়াত, ওয়ার্ড ওরবেস্টি ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক জন উইলডিং, অরবিস ইন্টারন্যাশনালের কান্ট্রি ডিরেক্ট্রর ডা. মুনির আহমেদ, ইউনিভার্সেল মেডিকেল রিসার্স সেন্টারের রিসার্স প্রধান অধ্যাপক ডা. রেদওনুর রহমান, বিএসএমএমইউর পাবলিক হেলথ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. ফারিহা হোসেন বক্তব্য রাখেন।

ক্লিনিক্যাল রিসার্চ প্ল্যাটফর্ম, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নন-কমিউনিকেবল ডিজিজ কন্ট্রোল সেল (এনসিডিসি), বাংলাদেশ নন-কমিউনিকেবল ডিজিজ ফোরাম (বিডিএনসিডিএফ), বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামসহ ৩০টি দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠান এ সম্মেলনের আয়োজন করেছে। তিন দিনব্যাপী এই সম্মেলন আগামী ২৮ জানুয়ারি শেষ হবে।