বগুড়ার শিবগঞ্জে নারীদের যাত্রী সাজিয়ে অটোভ্যান ছিনতাই চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সেই সাথে তাদের কাছ থেকে ছিনতাই করা একটি অটোভ্যানও উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার দুপুরে বগুড়ার পুলিশ সুদীপ কুমার চক্রবর্তী তার কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিং এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি জানান, এ চক্রটি নারীদের যাত্রী হিসেবে ব্যবহার করে অটোভ্যান ছিনতাই করে। গ্রেপ্তাররা হলেন- গাইবান্ধার পলাশবাড়ি উপজেলার পলাশগাছি গ্রামের মজনু মন্ডল (৩২), তার স্ত্রী মাহমুদা বেগম (২৬), ভগ্নিপতি মজনু মিয়া এবং শিবগঞ্জ থানার রহবল পশ্চিমপাড়া গ্রামের সাইদুর মন্ডল ওরফে মগা (৩২)।

সম্প্রতি হাফিজার রহমান নামের এক ভ্যান চালককে চেতনানাশক প্রয়োগ করে হত্যার পর অটোভ্যান ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনার তদন্তে নামে পুলিশ। এরপরই ছিনতাইকারী চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করে তারা।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শিবগঞ্জ থানার মেঘাখর্দ্দ দক্ষিন পাড়া এলাকার অটোভ্যান চালক হাফিজুর রহমান (৭০) গত ১৬ ডিসেম্বের সকালে অটোভ্যান নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। সন্ধ্যার পর মোকামতলা-সোনাতলা সড়কে আমঝুপি তিনমাথা এলাকায় স্থানীয় লোকজন অচেতন অবস্থায় হাফিজুরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেস্বর ভোর রাতে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের নামে থানায় মামলা করেন।

মামলার তদন্তকারী কমকর্তা শিবগঞ্জ থানার এসআই রিপন মিয়া তদন্ত নেমে চক্রটির সন্ধান পান। পরে ২৮ জানুয়ারি বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে চার জনকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তাররা জানায়, ১৬ ডিসেম্বর বিকেলে মজনু মন্ডল তার স্ত্রী মাহমুদা বেগম ও ভগ্নিপতি মজনু মিয়া যাত্রী সেজে অটোভ্যান ভাড়া করেন। এক পর্যায় তারা সোনাতলা সড়কে ডাকুমারা বাজারে ভ্যান চালকসহ চা পান করে। এ সময় মাহমুদা বেগম কৌশলে ভ্যান চালকের চায়ের সাথে চেতনানাশক মিশিয়ে দেন। এরপর মোকামতলার দিয়ে আসার সময় ভ্যানচালক অচেতন হয়ে পড়লে তাকে সড়কের পাশে ফেলে রেখে ভ্যান নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে ভ্যানটি সাইদুর মন্ডল মগার মাধ্যমে বিক্রি করে দেন।

শিবগঞ্জ থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তারদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী রহবল দক্ষিণ পাড়ার হাসান আলীর বাড়ি থেকে অটোভ্যানটি উদ্ধার করা হয়।