বহুস্তর বিপণন প্রতিষ্ঠানে (এমএলএম) এক হাজার ৩৫০ টাকা দিয়ে আইডি খুললে নানারকম সুবিধা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নিত একটি চক্র। তারা বিভিন্ন পেশার পাঁচ হাজার মানুষের কাছ থেকে প্রায় শত কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

এ ঘটনায় রাজধানীর দারুস সালাম থানায় মামলা হয়েছে। এরই মধ্যে প্রতারণায় জড়িত আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

মঙ্গলবার দারুস সালাম এলাকায় কথিত এমএলএম প্রতিষ্ঠান বিশ্ববাজার ডটকম ও বায়োটেক কোম্পানির কার্যালয়ে এ অভিযান চালানো হয়।

অভিযানে গ্রেপ্তাররা হলো প্রতিষ্ঠান দুটির পরিচালক মিজানুর রহমান শাহীন ও আবদুর রহমান বিডি মুন, পীরজাদা আরিফ বিন তাহের, অপু সরকার, গোলাম মোস্তফা, মো. আলামিন, ইউসুফ হোসেন জুয়েল ও জাহিদুল ইসলাম। তাদের কাছ থেকে একটি প্রাইভেটকার, পাঁচটি মোবাইল ফোনসেট, একটি হার্ডডিস্ক, একটি ল্যাপটপসহ অন্যান্য সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।

সিআইডি সূত্র জানায়, গ্রেপ্তাররা তাদের প্রতিষ্ঠানে আইডি খোলার জন্য লোকজনকে উদ্বুদ্ধ করত। এ ক্ষেত্রে তারা নানারকম সুবিধার কথা বলত। এর মধ্যে রয়েছে কম দামে ইলেকট্রনিক ও প্রসাধন সামগ্রী কেনা, তাদের ক্যাফেতে ৫০ ভাগ ছাড়ে খাওয়া, কপবাজার ভ্রমণ এবং কোনো পণ্য বিক্রি করলে ১০ থেকে ৭৫ ভাগ পর্যন্ত কমিশন দেওয়া। এসব বলে আইডি খোলার মাধ্যমে জাহিদুল ইসলাম ও অপু সরকার ২০ কোটি করে মোট ৪০ কোটি টাকা হাতিয়েছে। একইভাবে আবদুর রহমান ১২ কোটি, আরিফ বিন তাহের আড়াই কোটি, আলামিন পৌনে দুই কোটি, জুয়েল এক কোটি ৩৭ লাখ, মিজানুর রহমান ১০ লাখ টাকাসহ অন্যরা বিভিন্ন অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ করেছে।

এর মধ্যে ভুক্তভোগী আব্দুর জব্বারের কাছ থেকে ৯ লাখ, সামসুদ্দিন তালুকদার ও শামসুল আলমের থেকে মোট ৮ লাখ, মো. তৌহিদুলের ৫ লাখ, আকরাম হোসেনের আড়াই লাখ, সুমনের এক লাখ ৭৫ হাজার, জুবায়েরের এক লাখ ৩০ হাজার, জব্বার মোড়লের ১০ লাখ, আবদুল মান্নানের চার লাখ ১৭ হাজার, সাজ্জাদ আহমেদ শাওনের দুই লাখ, শাহিন খন্দকারের এক লাখ ৩০ হাজার, তারিকুল ইসলামের দেড় লাখ, মনিরুল ইসলামের ৯ লাখ, সাইদুল ইসলামের ৮ লাখ, জহিরুল ইসলামের এক লাখ ৬০ হাজার ও কামাল উদ্দিনের দুই লাখ ৭০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে তারা সাত লাখ আইডি খুলে বিভিন্নজনের ৯৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

সিআইডি জানায়, ঢাকা মেট্রোর অতিরিক্ত ডিআইজি ইমাম হোসেনের নির্দেশনায় এই প্রতারক চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন সহকারী পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর হোসেন। এর আগে এ ঘটনায় একেএম আবু বকর সিদ্দিক বাদী হয়ে দারুস সালাম থানায় মামলা করেন।

আসামিদের ছয়জন এখনও পলাতক। তাদের মধ্যে রয়েছেন বিশ্ববাজার ও বায়োটেকের এমডি আমিনুল কবির শিমুল, চেয়ারম্যান শেখ সাইদুল ইসলাম, পরিচালক মো. রানা, ইসমাইল হোসেন মনি, আবুল হাসান ও হামিদুর রহমান। তাদের অবস্থান শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চালাচ্ছে সিআইডি। এ ছাড়া বিপুল অর্থ আত্মসাতের ঘটনাটিও গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।