'করোনাকালীন অর্থসহায়তার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একটি ট্রাস্ট গঠন করেছেন। সেই ট্রাস্টে অর্থ পাঠানোর জন্য তিনি অনুরোধ জানিয়েছেন।' এভাবে এমপি ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীসহ অন্যদের কাছে মোবাইল ফোনে টাকা চাইতেন আবু হোরায়রা ওরফে খালিদ। এ সময় নিজেকে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বড় কর্মকর্তা, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা, এমনকি মন্ত্রী হিসেবেও পরিচয় দিতেন। টার্গেট ব্যক্তি টাকা দিতে সম্মত হলে ভুয়া নিবন্ধনের মোবাইল ফোনে খোলা বিকাশ বা নগদ নম্বর দিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়া হত।

অভিনব কৌশলে লাখ-লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া এই প্রতারককে অবশেষে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগ। গত ২০ ফেব্রুয়ারি নাটোরের সিংড়া থানা এলাকায় এ অভিযান চালায় সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের অর্গানাইজড ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম।

এই টিমের অতিরিক্ত উপকমিশনার নাজমুল হক জানান, প্রথমে ভুয়া নিবন্ধনের সিম ব্যবহার করে ওয়েবসাইট ও ফেসবুকসহ বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যম থেকে টার্গেট ব্যক্তির ফোন নম্বর সংগ্রহ করতেন খালিদ। এরপর তিনি ভুয়া পরিচয়ে অত্যন্ত চাতুরির সঙ্গে কন্ঠ পরিবর্তন করে কথা বলতেন। প্রধানমন্ত্রীর বরাত দিয়ে টাকা চাওয়ায় অনেকে যাচাই না করেই দিয়ে দিতেন। এভাবে বহু ভুক্তভোগীর কাছ থেকে লাখ-লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন তিনি। এই তালিকায় অনেক এমপি, রাজনৈতিক নেতাকর্মীও আছেন। গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে প্রতারণায় ব্যবহৃত দু'টি মোবাইল ফোন ও তিনটি ভুয়া নিবন্ধিত সিমকার্ড জব্দ করা হয়।
ডিবির এই কর্মকর্তা বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামালের নাম ব্যবহার করে চাঁদা দাবি করা হচ্ছিল। বিষয়টি নজরে এলে তিনি প্রথমে একটি জিডি করেন। ডিবি অনুসন্ধানে নেমে এই প্রতারককে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। এরপর এসএম কামালের পক্ষে তার সহযোগী কার্তিক বিশ্বাস শুভ বাদী হয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা করেন। মামলাটির তদন্ত করে অর্গানাইজড ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রতারকের অবস্থান সনাক্ত করে তাকে আইনের আওতায় আনা হয়।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী দপ্তরের অনেক সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তা, বিভিন্ন মন্ত্রী ও তাদের পিএস এবং এপিএস পরিচয়েও প্রতারণা করে আসছিলেন খালিদ।
এমন প্রতারণা এড়াতে সাইবার স্পেসে ব্যক্তিগত তথ্য, বিশেষ করে মোবাইল ফোন নম্বর 'পাবলিক' করে না রাখা এবং যাচাই ছাড়া অপরিচিত কাউকে টাকা না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে ডিবি।