রাজধানীর বনানীর দুই নম্বর সড়কের একটি গাড়ির শো-রুমে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও লুটপাট করেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার সন্ধ্যার এ ঘটনায় আহত হয়েছেন শো-রুমের মালিক আবদুল আলীম ও তার ভাতিজা সজীব মিয়া। তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, চাঁদা না দেওয়ায় এই হামলা চালানো হয়। দুর্বৃত্তরা নগদ ১৮ লাখ টাকা লুট করেছে।

বনানী থানার ওসি নূরে আজম মিয়া সমকালকে বলেন, হামলার অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে যায় পুলিশ। তবে চাঁদা দাবির বিষয়ে এখনও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বরং গাড়ি রাখার স্থানের ভাড়া পরিশোধ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ ছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। প্রকৃতপক্ষে কী ঘটেছে তা তদন্তের পর বলা যাবে।

ভুক্তভোগী আবদুল আলীম ঢামেক হাসপাতালে বলেন, হামলাকারীরা এলাকার সন্ত্রাসী চক্র। তারা কিছুদিন ধরে আমার কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা চেয়ে আসছিল। টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় তারা আমার ওপর ক্ষিপ্ত ছিল। এর জের ধরে সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে তারা ১০-১৫ জন মিলে শো-রুমে হামলা চালায়। ওই সময় তারা আমার মাথায় পিস্তলের বাঁট দিয়ে আঘাত করে। ভাতিজা সজীব বাধা দিতে গেলে তাকেও একইভাবে আঘাত করা হয়। এতে আমাদের মাথায় রক্তাক্ত জখম হয়। তারা আমাদের গালাগাল করে এবং কোটি টাকা দামের অন্তত দু'টি গাড়ি ভাংচুর করে। আরও কিছু ভাংচুর করেছে কি না লক্ষ্য করতে পারিনি। শেষে ১৮ লাখ টাকা ও মোবাইল ফোন লুট করে চলে যায়। এই হামলা এবং এর আগে চাঁদা চাওয়ার ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ আছে। পুলিশ চাইলে সেগুলো যাচাই করে দেখতে পারে।
তিনি আরও জানান, হামলাকারীদের কয়েকজনকে তিনি চিনতে পেরেছেন। তারা হলেন- শহিদুল ইসলাম, মো. হালিম, মুরগি রফিক, রুবেল, সুমন ও হামিদুল ওরফে পণ্ডিত। সুস্থ হওয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেবেন বলেও জানান।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া বলেন, বনানী থেকে আহত অবস্থায় দু'জনকে নিয়ে আসা হয়। তারা হামলা ও টাকা লুটের অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি সংশ্নিষ্ট থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে। তারা এর তদন্ত করছে। এখানে আহতদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তারা শঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।