মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ-টিসিবির উপকারভোগী তালিকা প্রণয়নে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। 

ইউনিয়নে ৯২৫ জন কার্ডধারী তালিকায় একজন উপসচিবের বাবা ও এক ইউপি সদস্যের (মেম্বারের) স্বচ্ছল আত্মীয়দের পাশাপাশি নাম এসেছে ধনাঢ্য ব্যবসায়ীদের।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, স্বল্প আয়ের জনগোষ্ঠীকে উপকারভোগী হিসেবে তালিকায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অন্তর্ভুক্তির জন্য সরকারি নির্দেশনা থাকলেও সেটি মানা হয়নি আদমপুর ইউনিয়নে। 

বঞ্চিতদের অভিযোগ, আদমপুর ইউনিয়নের স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা তাদের নিজেদের ইচ্ছামাফিক আত্মীয়-স্বজনের মাধ্যমে টিসিবির ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পেয়েছেন। 

টিসিবির নামের তালিকা থেকে দেখা গেছে, তাতে ৭নং ওয়ার্ডের উত্তর ভানুবিল গ্রামের বাসিন্দা ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব প্রদীপ কুমার সিংহের বাবা অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা কৃষ্ণ কুমার সিংহের নাম রয়েছে। তিনি প্রথম কিস্তিতে টিসিবির পণ্য নিয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রদীপ কুমার সিংহ স্থানীয় ইউপি সদস্যের সঙ্গে কথা বলতে বলেন।

৭নং ওয়াডের্র ইউপি সদস্য আব্দুল গফুরের কাছে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, টিসিবি তালিকায় তিনি তার বাবা, ছেলে ও ভাইয়ের নাম অন্তর্ভুক্ত করেছেন। অথচ তার দুই ছেলেই প্রবাসী।

পরে তিনি বলেন, ‘আসলে আমি এত সব বুঝিনি, আমার ভুল হয়েছে। এ রকম আর হবে না। চেয়ারম্যানকে বলে তালিকা থেকে নাম কেটে দিব।’

অভিযোগ উঠেছে, ৩নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল আজিম, ৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হাজী আলমগীর ফারুক, যুবলীগ নেতা মইনুল ইসলামসহ এলাকার স্বচ্ছল ও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা টিসিবির তালিকায় নিজেদের পরিবারের সদস্যদের নাম অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

ইউপি সদস্য আজিম মিয়া বলেন, ‘দরিদ্র পরিবারের অনেকে টাকা দিয়ে পণ্য কিনতে আগ্রহী না হওয়ায় স্বচ্ছলদের নাম দিতে হয়েছে।’ 

আদমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আবদাল হোসেন বলেন, ‘আমি অনিয়ম পছন্দ করি না। মেম্বারদের তালিকায় কিছুটা স্বজনপ্রীতি হয়েছে। আমি স্বচ্ছলদের নাম কেটে দিব।’

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশেকুল হক এ বিষয়ে বলেন, ‘আমি জনপ্রতিনিধিদের দেয়া তালিকা অনুয়ায়ী কার্ডে স্বাক্ষর করেছি। সেখানে কারা স্বচ্ছল তা জানি না, এ রকম হলে চেয়ারম্যানকে বলে দিব নাম কেটে দেওয়ার জন্য।’ 

উপসচিবের বাবার নাম টিসিবির তালিকায় রয়েছে- এ বিষয়ে জানালে তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারটি আমি জানি না। তবে এ রকম হয়ে থাকলে খোঁজ নিয়ে কার্ড বাতিল করা হবে।’