বাবা মো. রানা কোথায় আছেন জানে না সাত বছরের শিশু জান্নাতুল। তার বয়স যখন এক বছর; তখন মা শারমিন বেগমকে ছেড়ে চলে যান রানা।

শারমিন রাজধানীর কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় একটি তৈরি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। শিশু সন্তানকে একা বাসায় রেখে চাকরি করা সম্ভব না হওয়ায় পরে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িতে নিজ বাড়িতে রেখে আসেন জান্নাতুলকে। তবে ঢাকায় থাকলেও প্রতিদিনই নিয়ম করে ফোনে কথা বলতেন মেয়ের সঙ্গে। কিন্তু আর কখনও মায়ের সঙ্গে কথা হবে না ছোট্ট জান্নাতুলের।

গত শনিবার রাজধানীর খিলক্ষেতের ৩০০ ফিট থেকে শারমিনের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করে লাশ সেখানে ফেলে গেছে দুর্বৃত্তরা।

শারমিনের স্বজনরা বলছেন, জান্নাতুল এতিম হয়ে গেল। তার বাবা থেকেও নেই, আর মা চলে গেল দুনিয়া থেকে। শারমিন হত্যার সুষ্ঠু বিচারও চান তারা।

খিলক্ষেত থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুন্সি ছাব্বীর আহম্মদ জানান, নিহত শারমিনের ভাই আজিজুল অজ্ঞাত পরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছেন। তবে রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত জড়িত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে, ঘটনার পর র‌্যাব-১ ছায়া তদন্ত শুরু করেছে। জড়িত একজনকে তারা আটক করেছে বলে জানা গেলেও সংস্থাটির পক্ষ থেকে তা স্বীকার করা হয়নি। র‌্যাব-১-এর এক কর্মকর্তা জানান, আসামি ধরতে তাদের সদস্যরা মাঠে রয়েছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, লাশের মাথার অংশ মাটিচাপা দেওয়া ছিল। শনিবার অজ্ঞাত হিসেবে লাশটি উদ্ধার করা হয়। রাতে পরিচয় পাওয়া যায়। রোববার দুপুরে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ মর্গ থেকে লাশ নিয়ে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন স্বজনরা।

মামলার বাদী আজিজুল জানান, ১০-১১ বছর আগে শারমিন গ্রামের বাড়ি থেকে ঢাকায় আসেন। কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় থেকে একটি পোশাক কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। আনুমানিক আট-নয় বছর আগে রানা নামে এক পোশাক শ্রমিকের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের সংসারেই জন্ম জান্নাতুলের। এর পর রানা স্ত্রীকে রেখে চলে যায়। জান্নাতুল ময়মনসিংহে নানি আয়েশা খাতুনের কাছে বড় হচ্ছে। প্রতিদিন রাতে সে তার মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলত। শুক্রবার সন্ধ্যায়ও কথা হয়েছিল।

তিনি বলেন, 'আমার বোন ঢাকায় থাকত। তার কোনো শত্রু ছিল কিনা জানা নেই। কিন্তু যারা তাকে মেরেছে তাদের শাস্তি চাই। খুনিরা আমার ভাগ্নিটাকে এতিম করে দিল।'