সমকাল সুহৃদ সমাবেশ ও আল-খায়ের ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে দেশজুড়ে চলছে দুস্থ-সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম 'রমজানে অসহায় মানুষের পাশে'। কর্মসূচির আওতায় ১১, ১৫, ১৬ ও ১৭ এপ্রিল মৌলভীবাজারে শ্রীমঙ্গল, ফরিদপুর সদর, পটুয়াখালী সদর এবং জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে মোট ৭৫০ পরিবারের সদস্যদের হাতে এক মাসের খাদ্যসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়

ফরিদপুর
শামীমা নাছরিন শিমু
করোনাকালে কাজ হারিয়ে ফরিদপুরের খেটে খাওয়া দরিদ্র মানুষ হয়েছেন আরও দরিদ্র। বিশেষ করে পদ্মা নদীর ভাঙনকবলিত ডিগ্রিরচর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের সাধারণ মানুষ এই রমজানে দিশেহারা অবস্থার মধ্যে দিন পার করছেন। ফরিদপুর সদরের এমন কয়েকটি গ্রামের ২০০ হতদরিদ্র মানুষের পাশে খাদ্য সহায়তা নিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছে সমকাল সুহৃদ সমাবেশ ও আল-খায়ের ফাউন্ডেশন।

শহরের টেপাখোলা লেকপাড়ে নুরুল ইসলাম উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ১৫ এপ্রিল বিকেলে এই খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। রমজান উপলক্ষে চাল, ডাল, খেজুর, সয়াবিন তেল, চিনি, ছোলা, আলু, পেঁয়াজসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীর প্যাকেট তুলে দেওয়া হয় দুস্থ মানুষের হাতে।

খাদ্যসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিটন ঢালী। শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আলতাফ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন সমকালের প্রকাশক ও চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের পরিচালক আবুল কালাম আজাদ, এনজিও ব্যক্তিত্ব আজহারুল ইসলাম, আল-খায়ের ফাউন্ডেশনের প্রোগ্রাম অফিসার মোজাম্মেল হক তন্ময় প্রমুখ।

ফরিদপুর সুহৃদের সাধারণ সম্পাদক কাজী সবুজ, সহসভাপতি জয়ন্ত ভট্টাচার্য, সাংগঠনিক সম্পাদক তাসফিকা তামান্না, অর্থ সম্পাদক জিয়াউর রহমান, মহুয়া ইসলাম, আবদুল মজিদ বিপ্লব, হারুনার রশীদ, প্রভাত সিং, শাহীন মিয়া, আবরার নাদিম ইতু, তাহিয়াতুল জান্নাত রেমি, মিরান ও জান্নাত স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
খাদ্যসামগ্রী পেয়ে খুশি স্থানীয় বাসিন্দা স্বামী পরিত্যক্তা কুলসুম বেগম। তিনি বলেন, যা পাইছি তাতেই আমার ঈদ পার কইরাও আরও কয়দিন যাইব, আল্লাহ তোমাগো ভালো করুক।
প্রধান অতিথি লিটন ঢালী বলেন, হতদরিদ্ররা এই সহায়তা পেয়ে রমজান ও ঈদ সুন্দরভাবে পার করতে পারবেন। ফরিদপুর সদরবাসীর পক্ষ থেকে এ আয়োজনকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, এভাবে সবাই যার যার জায়গা থেকে স্থানীয় অতিদরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ালে তাদের দুর্দশা লাঘব হবে।
আলতাফ হোসেন বলেন, দেশব্যাপী অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে সুহৃুদরা। তাদের উদ্যোগে উপকৃত হচ্ছে অসহায় মানুষ। যে প্রক্রিয়ায় মানুষের কাছে সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে, সেটিও অনুসরণীয়।
নারীবিষয়ক সম্পাদক সুহৃদ সমাবেশ, ফরিদপুর

পটুয়াখালী
মাকসুদুর রহমান
১৬ এপ্রিল শনিবার। ঘড়ির কাঁটা ঠিক দুপুর ২টা ২০ মিনিট। সূর্যের প্রচণ্ড তাপে উত্তপ্ত পটুয়াখালী সরকারি মহিলা কলেজের সবুজঘেরা প্রাঙ্গণ। এমন এক দিনে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। সুহৃদ সভাপতি মো. জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ হাবীবুর রহমান, অধ্যাপক মেজবাহউদ্দিন সাগর, সাংবাদিক মুজাহিদুল ইসলাম প্রিন্স, মুফতী সালাহউদ্দিন, সুহৃদ উপদেষ্টা গাজী হানিফ, সৈয়দ আব্দুল ওয়াদুদ, সৈয়দ তাজুল ইসলাম, জ্যোৎস্না কর্মকার প্রমুখ।

দুপুরে সরকারি মহিলা কলেজের গেটে এসে উপস্থিত হন সুবিধাভোগীরা। এর আগেই দায়িত্বরত সুহৃদ রাশেদ, সোলায়মান, অনু, মুন্নী, হাসিব, আসমা, রঞ্জনা, আল-ইমরান সারি সারি করে খাদ্যসামগ্রীর প্যাকেট সাজিয়ে রাখেন।

এ সময় সুহৃদ গাজী হানিফ, সৈয়দ আব্দুল ওয়াদুদ, সৈয়দ তাজুল ইসলাম, ঐশী রায়, তানসী নামের তালিকা যাচাই করে প্রবেশ করান এবং নিবন্ধনে দায়িত্বরত ঝুমুর, আসলাম উদ্দিন, লামিয়া তাদের কার্ড অ্যান্ট্রি করে মাঠের দিকে পাঠিয়ে দেন। এরপর মাঠের বাইরে দায়িত্বরত সুহৃদ শাওন হাওলাদার, পলাশ হাওলাদার, আরিফ হোসেন দিদার, মেহেরজাবিন মুন্নী, রুবিনা রুবী, মাকসুদুর রহমান মাসুম, মাহমুদুল হাসান রাব্বি, কাজী রফিকুল ইসলাম রাহাত ও ফেরদানুর রহমান রিসান সুবিধাভোগী কার্ড দেখে দেখে মাঠের ভেতরে প্রবেশ করান এবং প্রত্যেককে মাঠে সাজানো খাদ্যসামগ্রীর প্যাকেটের সামনে বসিয়ে দেন। এরপর মঞ্চে আসেন অতিথিরা। দেন শুভেচ্ছা বক্তব্য।
সুহৃদ পলাশ, আরিফ, মেহেরজাবিন, রুবিনা অতিথিদের অনুষ্ঠানস্থলে নিয়ে আসেন।

খাদ্যসামগ্রী পেয়ে মহাখুশি অসহায় পরিবারের সদস্যরা। মধ্যবয়সী এমন একজন আসমা বেগম। বস্তিতে স্বামী-সন্তান নিয়ে অভাবে দিন কাটে তার। তিনি বলেন, 'আমাগোরে অ্যাতো ত্রাণ আগে কহোনও কেউ দ্যায় নাই। ত্রাণডা পাই কি যে উপকার হইছে কইয়া বুঝাইতে পারমু না। আল্লাহ যেন হামনেগোরে ভালো ও সুস্থ রাহেন'।
দিনমজুর দুলাল হাওলাদার (৪৫) বলেন, আজইকাল হাটবাজারে জিনিসপত্রের যে দাম তাতে এই রমজানে ভালা-মন্দ কিছু কিন্যা-কইর‌্যা খামু হেইয়ারও কোনো উপায় নাই। হামনেগো এই ত্রাণডা পাইয়া বাকি রোজা কয়ডায় অ্যাহোন ভালা-মন্দ কিছু খাইতে পারমু।'
সুহৃদ, পটুয়াখালী

শ্রীমঙ্গল
নুরুল ইসলাম
সেদিন মেঘেদের ফাঁকি দিয়ে রোদ হেসে উঠছিল। পড়ন্ত বেলায় এমন আবহাওয়া ছাপিয়ে রমজান উপলক্ষে খাদ্যসামগ্রী বিতরণের আয়োজন বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল। কিন্তু প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে শ্রীমঙ্গল উপজেলা পরিষদের মাঠে তালিকাভুক্ত উপকারভোগীরা উপস্থিত হতে ভুল করেননি। ওই দিন বিকেলে দেড়শ অসহায় পরিবারের সদস্যের হাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।

১১ এপ্রিল বিকেলে শ্রীমঙ্গল উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে উপকারপ্রত্যাশীদের মধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোজ্যসামগ্রীর প্যাকেট ও চালের বস্তা পৌঁছে দেন মৌলভীবাজারের সুহৃদরা।

শ্রীমঙ্গল পৌর এলাকার রেল কলোনি, মুসলিমবাগ, রূপসপুর, শাপলাবাগ, শ্যামলী, সুরভী আবাসিক এলাকাসহ পাড়া-মহল্লার দুস্থ মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন- সাংবাদিক নুরুল ইসলাম, শামীম আক্তার হোসেন, আহমাদ সেলিম, শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বিকুল চক্রবর্তী, স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের প্রতিনিধি মৃণাল কান্তি দাশ তাপস, ইকরা বাংলা টিভির ক্যামেরাপারসন রূপন দাশ, কর্মকর্তা প্রবীর কর্মকার, সুহৃদ সহসভাপতি কবি ইয়াসীন সেলিম, সাধারণ সম্পাদক উপানন্দ বর্মণ, সদস্য আব্দুস সামাদ আজাদ প্রমুখ।

সহযোগিতাপ্রাপ্তদের মধ্যে সামাজিকভাবে প্রতিবন্ধী জাকির হোসেন, সাচ্চু মিয়া, সিকান্দর আলী, তাহির উল্লাহ, জোহর আলীসহ অনেকে রয়েছেন। তারা পরনির্ভরশীল হয়ে জীবনযাপন করছেন। শ্রীমঙ্গল পৌর এলাকার এমন ২০-২২ জন মানুষকে সুহৃদরা রোজা উপলক্ষে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিয়েছেন।
অন্ধ সুফিয়া বেগম, প্রতিবন্ধী সাচ্চু মিয়া বলেন, 'এ জীবনে কতো মানুষের সাহায্য পাইছি, তার সংখ্যা কইতে পারতাম নায়। এবার ব্যতিক্রম উপায়ে মোটা দাগের সাহায্য পাইলাম। আল্লাহ এইসব মানুষকে আরও ধনেজনে যেন বড় করে।'

এর আগে শ্রীমঙ্গল পৌর এলাকার বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা ঘুরে প্রকৃত অসহায় পরিবার খুঁজে বের করে ১৫০ পরিবারের তালিকা প্রস্তুত করেন সুহৃদ সহসভাপতি কবি ইয়াসীন সেলিম, সদস্য ওমর আলী, রাকিব আহসান, আব্দুস সামাদ আজাদ, অনুজ দাশ প্রমুখ।

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

সরিষাবাড়ী
বাদশা ভূঁইয়া
সবাই মিলে ঈদ আনন্দ উপভোগ করার লক্ষ্যে সমকাল সুহৃদ সমাবেশ ও আল-খায়ের ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে এই রমজানে ২০০ পরিবারের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। ১৭ এপ্রিল সকালে জামালপুরের সরিষাবাড়ী লোকোশেড ঈদগাহ মাঠে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে সুহৃদ সভাপতি ওমর কাজীর সভাপতিত্বে অতিথি ছিলেন আল-খায়ের ফাউন্ডেশনের কান্ট্রি ডিরেক্টর তারেক মাহমুদ সজীব, সমকালের সহকারী সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম আবেদ, সরিষাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মীর রকিবুল হক, সাংবাদিক সোলায়মান হোসেন হরেক, আন্নু মিঞা, একেএম সফিকুল আলম আজাদ, আ. রাজ্জাক, একেএম আশরাফুল ইসলাম, ফারুক হোসেন ফিরোজ, জহুরুল ইসলাম ঠাণ্ডু, মোস্তাক আহাম্মেদ মনির, কামরুল ইসলাম প্রমুখ।
খাদ্য সহায়তা পেয়ে হাটবাড়ী গ্রামের মজিরন বিবি (৬৫) বলেন, 'যারা আমারে এত্তগুলা খাবার দিলো আল্লাহ যেন তাদের বালা করে।'
শুয়াকৈর গ্রামের রফিক মণ্ডল (৫৫) বলেন, 'করোনার কারণে পরিবার-পরিজন নিয়া চলা কষ্ট অইতাছে। তোমার খাবার পাইয়া আমি খুব খুশি অইছি। পরিবার-পরিজন নিয়া কয়ডা দিন ভালা চলবার পামু।'

খাদ্য সহায়তা পেয়ে সুবিধাভোগীরা আনন্দ প্রকাশ করেন এবং আয়োজক প্রতিষ্ঠান সমকাল সুহৃদ সমাবেশ ও আল-খায়ের ফাউন্ডেশনের প্রতি কৃজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। খাদ্যসামগ্রী বিতরণ কার্যক্রমের সার্বিক বিবিন্ন স্থানের অসহায় মানুষ খুঁজে তালিকা তৈরি ও তাদের সৃঙ্খলাবদ্ধভাবে খাদ্যসামগ্রী তুলে দেওয়ার ক্ষেত্রে সর্বিক সহযোগিতায় করেন সরিষাবাড়ীর সুহৃদরা। সুহৃদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- কামরুল ইসলাম বিপুল, শাহাদত হোসেন রিপন, ইয়াছিন আলম শিপন, তরিকুল ইসলাম নবীন, আরিফ মিয়া, রবিউল ইসলাম, রুকন মাহমুদ, শাহিন মিয়া খোকন, রনি মিয়া, নূর ইসলাম সুমন, মানিক মিয়া, শফিকুল ইসলাম, সুজন মিয়া, মমিনুল ইসলাম কিসমত, নজরুল ইসলাম, হাফিজা বেগম তালুকদার, রফিকুল ইসলাম, পরিমল চন্দ্র সূত্রধর, আলহাজ রবিউল ইসলাম, মুক্তার হোসেন, মঞ্জুরুল ইসলাম মজনু, ইয়াছিন হোসেন প্রমুখ।
সাধারণ সম্পাদক সুহৃদ সমাবেশ, সরিষাবাড়ী