লক্ষ্মীপুরে চেক জালিয়াতি মামলায় গ্রেপ্তারের পর আবদুল কুদ্দুস নামে এক ফার্মেসি ব্যবসায়ীর পুলিশের হেফাজতে মৃত্যু হয়েছে। বুধবার রাত ১১ টার দিকে সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। আব্দুল কুদ্দুস সদর উপজেলার বাংগাখাঁ ইউনিয়নের রাধাপুর গ্রামের আবদুল্লাহ চৌধুরীর ছেলে। তিনি লক্ষ্মীপুর পৌরসভার মেঘনা রোড এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা।

আব্দুল কুদ্দুছের আত্মীয় পরিচয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সদর হাসপাতালের সামনে জানান, রাতে তাকে সুস্থ অবস্থায় পুলিশ গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়। রাত সাড়ে ১০টার দিকে অসুস্থ হয়েছেন বলে পুলিশ তাকে হাসপাতাল নিয়ে যায়। সেখানে ডাক্তার আবদুল কুদ্দুসকে মৃত ঘোষণা করেন।

ওই আত্মীয়ের দাবি, পুলিশ হেফাজতে একজন সুস্থ মানুষের মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে  প্রশ্ন উঠেছে। এছাড়া মৃত্যুর পরে পুলিশের দায়িত্বে হাসপাতাল থেকে মরদেহ তড়িঘড়ি করে অ্যাম্বুলেন্সে উঠিয়ে ময়নাতদন্ত ছাড়াই পরিবারে কাছে হস্তান্তরের জন্য নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নেয়া হয়। পরে সাংবাদিকদের উপস্থিতির কারণে এ প্রচেষ্টা থেমে যায়। বিষয়টি নিয়েও প্রশ্নের সৃষ্টি হয় বলে জানান আত্মীয়রা।

এ ঘটনায় পুলিশ জানায়, ঢাকার ওয়ারী থানায় কুদ্দুসের বিরুদ্ধে একটি চেক জালিয়াতি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। এতে নির্দেশনা পেয়ে সদর থানা পুলিশ তাকে বুধবার রাত পৌনে নয়টার দিকে লক্ষ্মীপুরের মেঘনা রোড এলাকার ফার্মেসি দোকান থেকে গ্রেপ্তার করে। খবর পেয়ে তার স্ত্রী নিগার সুলতানা স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর মো. আল-আমিনকে নিয়ে থানায় যান। পুলিশের দাবি, তাদের উপস্থিতিতেই কুদ্দুস অসুস্থ হয়ে পড়েন। অসুস্থ অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) আনোয়ার হোসেন দাবি করেন, কুদ্দুস স্ট্রোক করেছেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মিমতানুর রহমান বলেন,  মরদেহ ময়নাতদন্তসহ বিষয়টির তদন্ত করা হবে।