সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার পর্যটনকেন্দ্র জাফলংয়ে পর্যটকদের কাছ থেকে ‘প্রবেশ ফি’ না নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে জেলা প্রশাসককে চিঠি দিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমদ। আজ মঙ্গলবার মন্ত্রীর চিঠিটি সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. মজিবুর রহমানের হাতে পৌঁছায়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেটের জেলা প্রশাসক। 

প্রবাসীকল্যাণ ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমদ সিলেট-৪ (গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর ও কোম্পানীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য। তার নির্বাচনী এলাকা গোয়াইনঘাটে জাফলং পর্যটনকেন্দ্রের অবস্থান। সাংসদ হিসেবে তিনি উপজেলা পর্যটন উন্নয়ন কমিটির প্রধান উপদেষ্টা।

কর্মসংস্থানমন্ত্রীর চিঠিতে বলা হয়, জেলা পর্যটন উন্নয়ন কর্তৃক পর্যটন স্পট সমূহের ‘প্রবেশ ফি’ নির্ধারণ, আদায় এবং আদায়কৃত অর্থ ব্যবহার সংক্রান্ত কোনো আইনানুগ বিধান জারি হয়েছে কি-না, তা জানা প্রয়োজন।

জেলা প্রশাসক মো. মজিবুর রহমান বলেন, চিঠি পাওয়ার আগেই জাফলং থেকে ‘প্রবেশ ফি’ আদায় বন্ধের নির্দেশ দিয়েছি। জেলা পর্যটন উন্নয়ন কমিটির পরবর্তী বৈঠক না হওয়া পর্যন্ত ‘প্রবেশ ফি’ আদায় বন্ধ থাকবে। 

এ সংক্রান্ত আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখনো বৈঠকের দিনক্ষণ নির্ধারণ হয়নি। মঙ্গলবার জেলার আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায়ও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। এতে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আশরাফ আহমদ, গোয়াইনঘাট উপজেলা চেয়ারম্যান ফারুক আহমদ, ওসমানীনগর উপজেলা চেয়ারম্যান ময়নুল হক চৌধুরী, জেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি আল আজাদ সকল পর্যটনকেন্দ্র পুরোপুরি উন্মুক্ত রাখার পক্ষে মতামত ব্যক্ত করেন।

জাফলং দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে অন্যতম আকর্ষণের জায়গা। ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে জেলা পর্যটন উন্নয়ন কমিটির সভায় জাফলংয়ে পর্যটকদের কাছ থেকে ১০ টাকা হারে ‘প্রবেশ ফি’ গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়। জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পদাধিকার বলে পর্যটন উন্নয়ন কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। 

গত ৫ মে জাফলংয়ের টিকিট কাউন্টারের কর্মীরা পর্যটকদের মারধর করেন। পর্যটকদের মারধরের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জাফলংয়ে পর্যটকদের কাছ থেকে ‘প্রবেশ ফি’ আদায় এক সপ্তাহের জন্য বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসক। অন্যদিকে পর্যটকদের মারধরের ঘটনায় মামলা করেন এক ভুক্তভোগী। এ ঘটনায় টিকিট কাউন্টারের দায়িত্বে থাকা ও মারধরে জড়িত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

প্রবাসীকল্যাণ ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমদ স্বাক্ষরিত চিঠিতে ৫ মে পর্যটকদের ওপর হামলার ঘটনা উল্লেখ করে বলা হয়, বাংলাদেশের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র সিলেটের জাফলংয়ে প্রবেশ ফি নিয়ে স্বেচ্ছাসেবক ও পর্যটকদের মধ্যে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই দৃশ্যের ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। যা সিলেটের পর্যটনকেন্দ্রগুলো সম্পর্কে ভ্রমণপিপাসুদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। দেশে ও বিদেশে এলাকার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে, যা কখনোই কাম্য নয়। তা ছাড়া জেলা পর্যটন উন্নয়ন কমিটি পর্যটনকেন্দ্রগুলোর মাধ্যমে প্রবেশ ফি নির্ধারণ, আদায় ও আদায় করা অর্থের ব্যবহার–সংক্রান্ত কোনো আইনানুগ বিধান জারি হয়েছে কি না তা জানা প্রয়োজন। মন্ত্রী এ সংক্রান্ত নীতিমালা বা বিধিবিধান জানানোর অনুরোধ করেছেন এবং চূড়ান্তভাবে আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে প্রবেশ ফি আদায় বন্ধ রাখতে বলেন। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সাথে আলোচনা করে সময়োপোযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে বলে এতে জানানো হয়।

এদিকে উন্মুক্ত পর্যটনকেন্দ্রে উন্নয়নের নামে পর্যটকদের কাছ থেকে টাকা আদায় ‘সম্পূর্ণ বেআইনি’ ও ‘এক্তিয়ার বহির্ভূত চাঁদাবাজি’ বলে জানিয়েছেন আইনবিদরা। যদিও গোয়াইনঘাটের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তাহমিলুর রহমান আইন মেনে টাকা আদায়ের দাবি করেন। গত ৭ মে সমকাল-এ ‘জাফলংয়ে উন্নয়নের নামে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এতে পর্যটকদের কাছ থেকে ফি আদায়ের জন্য উপজেলা প্রশাসন নিযুক্ত স্বেচ্ছাসেবকদের মজুরি প্রদান নিয়ে প্রশ্ন তুলেন সংশ্লিষ্টরা। এ পরিস্থিতিতে জেলা পর্যটন উন্নয়ন কমিটির সভাপতি, জেলা প্রশাসক এক সপ্তাহের জন্য জাফলংয়ে প্রবেশ মূল্য আদায় বন্ধের নির্দেশ দেন। পর্যটন উন্নয়ন কমিটির পরবর্তী সভা পর্যন্ত প্রবেশ মূল্য আদায় বন্ধ থাকবে।