বিগত বছরের তুলনায় চলতি বছর ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে রাজধানীবাসীকে সতর্ক করে দিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন-ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম। 

বুধবার সকালে রাজধানীর উত্তরায় এডিস ও ডেঙ্গু বিরোধী নাগরিক সচেতনতামূলক পথসভায় অংশ আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা যেটা তথ্য পেয়েছি গত বছরের চেয়ে এবার ডেঙ্গু আরও বেশি ভয়ঙ্কর হতে পারে। আমার কাউন্সিলদের নিয়ে, সিটি করপোরেশনের সবাইকে নিয়ে সাধ্যমতো চেষ্টা করব ডেঙ্গু মোকাবিলার।  যা যা করা দরকার তা করবো।  প্রত্যেকটি ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে গিয়ে ক্যাম্পেইন করা হবে।’

ডেঙ্গুর প্রকোপ নিয়ে এক জরিপ শেষে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের তিনটি ওয়ার্ডকে অতি ঝুঁকিপূর্ণ এবং চারটি ওয়ার্ডকে মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ  হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

আসন্ন বর্ষা মৌসুমে রাজধানীতে ডেঙ্গুর প্রকোপ মোকাবিলায় তাই জোরদার অভিযান শুরু করেছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। 

ডিএনসিসি এলাকায় ১০ দিনের মশা নিধন কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম। ১৭ থেকে ২৬ মে পর্যন্ত এই কর্মসূচি চলবে।

তিনি জানান, ডিএনসিসির ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে রাজধানীর উত্তরে কোনো ভবনে এডিসের লার্ভা পেলে ওই ভবনের মালিকের বিরুদ্ধে জরিমানার পাশাপাশি মামলাও করা হতে পারে।


তিনি বলেন, ‘গতবার আমরা ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করেছি। এবারও সেটি হবে, জেলও হবে। কঠোর থেকে কঠোরতর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  সরকারি হোক, বেসরকারি হোক কিংবা আধা সরকারি হোক  এডিসের লার্ভা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। জরিমানা করা হবে।’

ডিএনসিসির চিরুনি অভিযানে আগামী দশ দিন মশক বিভাগের কর্মীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

মসজিদে খুতবার সময় যেন ডেঙ্গু নিয়ে বার্তা প্রচার করা হয় সেজন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবেও বলেন জানান তিনি।

ডিএসসিসির ডেঙ্গু অভিযান আষাঢ় থেকে 

ডেঙ্গুর প্রকোপ নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জরিপে বলা হয়েছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের তিনটি ওয়ার্ড অতি ঝুঁকিপূর্ণ এবং চারটি ওয়ার্ড মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ। 

ডিএসসিসি এই সাতটি ওয়ার্ডে এডিস নির্মূল অভিযান শুরু করছে এই মৌসুমে। 

তবে ডিএসসিসির ডেঙ্গুবিরোধী মূল অভিযান আগামী আষাঢ় মাস থেকে শুরু হবে বলে জানান মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস।

বুধবার দুপুরে রাজধানীর মিলব্যারাক সংলগ্ন ধোলাইখাল পাম্প স্টেশন ও জলাধার পরিদর্শন শেষে মেয়র তাপস সাংবাদিকদের বলেন, ‘এরই মাঝে আমরা সরকারের কাছে ১০টি অঞ্চলের জন্য ১০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চেয়েছি যাতে করে আমরা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে পারি। এছাড়াও এ মাসের ১৬ তারিখে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে একটি মতবিনিময় সভা করতে যাচ্ছি। মতবিনিময়ের মাধ্যমে আমরা আরও  জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে চাই। 

শেখ তাপস বলেন, ‘বর্ষা মৌসুমে শুরু হলে আমাদের দুটি মূল কাজ অগ্রাধিকার পায়। একটি হলো মশক নিধন ও এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে রাখা যাতে করে ঢাকাবাসী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত না হয় এবং দ্বিতীয়ত হলো জলাবদ্ধতা নিরসন, যাতে করে জলমগ্নতা না হয়। এই দুটি বিষয়কে বিবেচনা করেই আমরা এবার অগ্রিম কাজ আরম্ভ করেছি।’