সুন্দরবনে অবশেষে দীর্ঘমেয়াদে প্রতিবেশগত পর্যবেক্ষণের (ইকোলজিক্যাল মনিটরিং) উদ্যোগ নিয়েছে বন বিভাগ। এর আওতায় সুন্দরবনে দূষণ, পানির অবস্থা, লবণাক্ততার পরিমাণ ও পলি পড়ার বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হবে। পর্যবেক্ষণ করা হবে গাছপালা, বন্যপ্রাণী ও জলজ প্রাণীর অবস্থা। আগামী মাসে শুরু হচ্ছে এই কার্যক্রম। দীর্ঘদিন পরে নেওয়া হলেও বন বিভাগের এ উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন বন গবেষকরা।

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সুন্দরবন নিয়ে দীর্ঘমেয়াদে কখনও কোনো গবেষণা হয়নি। তাই প্রয়োজনের সময় অনেক তথ্য-উপাত্ত পেতে বেগ পেতে হয় খোদ বন বিভাগকে। এ কারণে মূলত ইকোলজিক্যাল মনিটরিংয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 'সুন্দরবন সুরক্ষা প্রকল্প'-এর আওতায় করা হবে ইকোলজিক্যাল মনিটরিং। আগামী মাস থেকে এই কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি চলছে। এই মনিটরিংয়ে ব্যয় হবে প্রায় ২৫ কোটি টাকা। প্রথম ৫ বছর প্রকল্পের অর্থে মনিটর করা হবে। পরবর্তী সময়ে রাজস্ব খাত থেকে এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড. আবু নাসের মোহসিন হোসেন সমকালকে জানান, নিয়মিত বনে গাছপালার বৃদ্ধি ও রোগবালাই পর্যবেক্ষণ করা হবে। বাঘ, হরিণসহ বন্যপ্রাণী এবং ডলফিন, কুমিরসহ জলজ প্রাণীর অবস্থাও আসবে পর্যবেক্ষণের আওতায়। বনের নদী-খালগুলোর পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের মাত্রা ও পানির সার্বিক অবস্থাও পরীক্ষা করা হবে। তিনি জানান, সংগ্রহ করা হবে বনের মধ্য দিয়ে জলযান চলাচল, শিল্প কারখানা ও পর্যটকদের কারণে কী পরিমাণ দূষণ ঘটছে সেই তথ্য-উপাত্ত। নির্ণয় করা হবে নদীর পানিতে লবণাক্ততার পরিমাণ ও প্রভাব, দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমাণ, পলি পড়ার হার এবং এর প্রভাব।

বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আরও জানান, বিদেশি সংস্থা জিআইজেডের আর্থিক সহযোগিতায় সুন্দরবন ব্যবস্থাপনা সহায়তা প্রকল্প-২ এর কার্যক্রম চলছে। এই প্রকল্পের আওতায় আইইউসিএনের প্রথিতযশা বিশেষজ্ঞদের নিয়ে কী কী তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করলে দীর্ঘমেয়াদে একটা প্রতিবেশগত অবস্থা জানা যাবে তা নিয়ে কাজ চলছে। এই কাজ শেষ হলে কী কী তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হবে তাঁরা তার একটি প্রতিবেদন দেবেন। তাঁদের মতামতের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

খুলনা সার্কেলের বন সংরক্ষক মিহির কুমার দো জানান, কয়েকটি প্রজাতির বন্যপ্রাণী ও পাখিকে ইন্ডিকেটর বা সূচক হিসেবে নেওয়া হবে, দেখা হবে সেগুলোর অবস্থা কেমন। পর্যবেক্ষণ করা হবে লবণাক্ততা বৃদ্ধি ও পলি পড়ার হার কেমন। কয়েকটি প্রজাতির গাছ ইন্ডিকেটর বা সূচক হিসেবে নেওয়া হবে, এই গাছগুলোর ডিস্ট্রিবিউশন বা বিন্যাস কোথায় কী অবস্থায় আছে, গাছপালার কাভারেজ কেমন আছে তা দেখা হবে। বিভিন্ন বর্জ্যের কারণে কী পরিমাণ দূষণ ঘটছে। দীর্ঘমেয়াদে এসব তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও পর্যালোচনা করা হবে।

এ ব্যাপারে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ডিসিপ্লিন প্রধান অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ হারুন চৌধুরী সমকালকে বলেন, বন বিভাগের এই উদ্যোগ বনের সুরক্ষায় ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণে কাজে লাগবে। মনিটর করলে বোঝা যাবে বনের সামগ্রিক অবস্থা ভালো আছে, নাকি খারাপ হয়েছে।