ঢাকা টেস্টে দেখা মিলছে ব্যতিক্রম কিছুর। উইকেট ব্যাটিং সহায়ক। সামান্য সহায়তাটুকু পেসারদের জন্য। স্পিন যেন ধরছেই না। তবে বাংলাদেশ দলের উইকেটরক্ষক ব্যাটার লিটন দাস মনে করছেন, উইকেট কঠিন হতে শুরু করেছে। তৃতীয় ও চতুর্থ ইনিংসে ব্যাট করা কঠিন হবে। যেকোন মূল্যে লঙ্কানদের লিড আটকাতে হবে। 

টেস্ট ক্যারিয়ার সেরা ১৪১ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচ শেষে দলের প্রতিনিধি হয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসে লিটন বলেন, ‘ওরা এখনও অনেক পিছিয়ে আছে। এটা মিরপুরের উইকেট। সকালে এক-দুটি উইকেট নিতে পারলে অনেক চান্স থাকবে। এখানে প্রথম ইনিংস অনেক গুরুত্বপূর্ণ। ওরা আমাদের কাছাকাছি চলে আসলে বা ওপরে চলে গেলে ব্যাকফুটে চলে যাবো। লিড যত টানা যায় তত ভালো।’ 

সকালেই মিরপুরের উইকেট চরিত্র বদলেছে বলে মনে করেন লিটন। সময় গেলে আরও কঠিন হবে। স্পিনাররা রান চেক দিয়ে উইকেট নিতে পারলেই ম্যাচ ঘুরে যাবে বলে উল্লেখ করেন তিনি, ‘দলে দু’জন ফ্রন্টলাইন স্পিনার আছেন। ওরা দায়িত্বশীল বোলিং করলে, উইকেট নিলে ম্যাচে কিছু আপ এন্ড ডাউন তো হবেই। ওটার জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। উইকেটে আজ স্পিনারদের তেমন সহায়তা ছিল না। তারপরও তারা ভালো করেছে।’

ঢাকা টেস্টে ২৪ রানে ৫ উইকেট পড়ার পরে মুশফিকের সঙ্গে ২৭২ রানের জুটি গড়েছেন লিটন দাস। মুশফিক খেলেছেন ১৭৫ রানের হার না মানা ইনিংস। নিজের ব্যাটিং ও মুশির সঙ্গে জুটি নিয়ে লিটন জানান, মুশির সঙ্গে তার আগেও কটা জুটি হয়েছে। এটা দলের জন্য ভালো। এছাড়া নিজের অনুশীলনে কিছু পরিবর্তন এনেছেন বলেও উল্লেখ করেন দারুণ ফর্মে থাকা এই ক্রিকেটার। 

তিনি বলেন, ‘সবসময় ভালো খেলার চেষ্টা করি। ব্যর্থ হই, আবার সফলও হই। এটাই ক্রিকেট। মুশফিক ভাইয়ের সঙ্গে মোটামুটি ক’টা দেড়শ’ রানের জুটি হলো। আমার অনুশীলনে ধরনে কিছু পরিবর্তন এসেছে। কী পরিবর্তন সেটা কীভাবে বোঝাবো, আপনারাও বুঝবেন না। কিছু বিষয় নিজের মধ্যেই থাক। টেস্ট ক্রিকেটে ধরণটা এখন ভালো বুঝি।’

বাংলাদেশের ৩৬৫ রানের জবাবে শেষ বেলায় দুই উইকেট হারিয়ে ১৪৩ রান তুলেছে শ্রীলঙ্কা। এখনও পিছিয়ে আছে ২২২ রানে। দলটির ওপেনার দিমুথ করুনারত্নে ৭০ রানে খেলছেন। সাকিব শেষ বেলায় উইকেট নিয়েছেন। তাইজুলের একটি টার্ন করা বলে লেগ বিফোর থেকে বেঁচেছে শ্রীলঙ্কা। এবাদতের ফুল লেন্থের দারুণ একটা বলে রিভিউ না নিয়ে ভুল করেছে দল। এসবের বাইরেও টেস্টে লাগাম আছে মুমিনুলদের হাতে। লিটন জানিয়ে গেলেন, সুযোগ আছে শক্তভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর।