জাতীয় ঐক্য নিয়ে নাগরিক ঐক্যের সঙ্গে ‘সৌহাদ্যপূর্ণ পরিবেশে একটা কার্যকর আলোচনা হয়েছে’ বলে জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মঙ্গলবার রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু কল্যাণ পরিষদের প্রাঙ্গণে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি।

এ রআগে জাতীয় ঐক্য সৃষ্টির লক্ষ্যে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নার সঙ্গে প্রথম বৈঠকে করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।বিকেল সোয়া ৫টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টা পর্যন্ত তোপখানা রোডে বাংলাদেশ শিশু কল্যাণ পরিষদ মিলনায়তনে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বিএনপির পক্ষে প্রতিনিধি দলে মির্জা ফখরুলের সঙ্গে দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, সাবেক এমপি জহির উদ্দিন স্বপন উপস্থিত ছিলেন।

নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্নার সঙ্গে দলটির উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এস এম আকরাম, প্রেসিডিয়াম সদস্য মোফাখরুল ইসলাম নবাব, জিল্লুর চৌধুরী দীপু, যুগ্ম সম্পাদক ডা. জাহেদ উর রহমান, কেন্দ্রীয় সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আবু জাহেদ মোহাম্মদ সারওয়ার, আনিসুর রহমান খসরু, মাহবুব মুকুল, মনজুর কাদের, এস এম এ কবির হাসান, আবু তালেব দেওয়ান, অহিদুজ্জামান মুহিদ, আব্দুর রাজ্জাক রাজা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

পরে সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, অত্যন্ত সৌহাদ্যপূর্ণ পরিবেশে একটা কার্যকরী আলোচনা হয়েছে। আশা করছি, বাকি আলোচনাগুলোও ফলপ্রসূ হবে। আর অতি দ্রুত সত্যিকার অর্থে একটা আন্দোলন নিয়ে জনগণের সামনে উপস্থিত হতে পারবো। 

মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে যে ফ্যাসিস্ট সরকার- তাদেরকে সরিয়ে সত্যিকার অর্থে জনগণের একটি সরকার ও সংসদ গঠনের জন্য বৃহত্তর আন্দোলনের কথা ভেবে আমরা আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করেছি। এটাকে যৌক্তিক পরিণতির দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য। 

তিনি জানান, আমরা আশা করছি, আলাপ- আলোচনা শেষ করে আমরা একটা যৌথভাবে আন্দোলনের সূচনা করতে পারবো। আমরা খুব শিগগিরই এটা করতে পারবো।

বৈঠকে আলোচনা বিষয়ে ফখরুল বলেন, প্রধান আলোচনা হয়েছে- গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধার এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য একটা নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে, নির্বাচন কমিশন নতুন করে গঠন করার মধ্যে দিয়ে যে নির্বাচন হবে সেখানে সবার মতামতের ভিত্তিতে একটা সরকার গঠন করা হবে। 

মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, আন্দোলন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আমরা চেষ্টা করছি। এখন আন্দোলনের একটা পর্যায়ে চলেও এসেছে। ইতোমধ্যে বিএনপির সাথে আমাদের অনানুষ্ঠানিক কথাও হয়েছে। কিন্তু আমরা অনানুষ্ঠানিক পর্যায়েই শুরু করেছি। 

আলোচনার বিষয়ে মান্না বলেন, একটা আন্দোলন গড়ে তোলবার জন্য যেগুলো করা দরকার, এর সবাই বিস্তারিত না হলেও একদম মৌলিক বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে একযুগেও বেশি সময় ধরে আমাদের অভিজ্ঞতা বলছে, এই সরকারের অধীনে কোনো সুষ্ঠু, ভালো ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হতে পারে না। এরই ভিত্তিতে এই সরকার চলে যাওয়ার পরে পরবর্তী নির্বাচন না পর্যন্ত যারা দায়িত্বে থাকবেন ( তাকে যে নামেই ডাকি), এই দাবির ভিত্তিতে আমরা বিজয় পর্যন্ত লড়াই করব। এটাই আলোচনার ভিত্তি ছিলো। 

বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার একটা পদক্ষেপ হিসেবে মঙ্গলবারের এই বৈঠক বলেও জানান মাহমুদুর রহমান মান্না।

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দাবিতে জাতীয় ঐক্য সৃষ্টির লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার অংশ হিসেবে মাহমুদুর রহমান মান্নার সঙ্গে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।