আওয়ামী লীগ নেতা প্রয়াত অধ্যক্ষ আফজাল খানের বড় ছেলে মাসুদ পারভেজ খান ইমরান কুমিল্লা সিটি করপোরেশন থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে আওয়ামী লীগের বৈঠকে।

নৌকার প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে ২৬ মে তিনি তার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করবেন বলে সমকালকে জানান আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে নৌকার বিদ্রোহী প্রার্থী মাসুদ পারভেজ খান, তার বোন সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য আঞ্জুম সুলতানা সীমাকে নিয়ে বৈঠক করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এসময় আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, দপ্তর সম্পাদক ব্যরিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া উপস্থিত ছিলেন। 

বৈঠক শেষে দলের যুগ্ম-সাধারণ আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আওয়ামী লীগ একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল। আওয়ামী লীগে প্রতিযোগিতা থাকে। কিন্তু দিনশেষে ঐক্যবদ্ধ হতে ভুল করে না। আসন্ন কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও তাই হতে যাচ্ছে।’ 

কুমিল্লায় বীর মুক্তিযোদ্ধা আফজাল খানের পরিবারের ঐতিহ্য ও দলের জন্য তাদের অবদানের কথা তুলে ধরে নাছিম বলেন, ‘তারা অতীতেও দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছে। কুমিল্লা সিটি নির্বাচনেও তাই করতে যাচ্ছে। বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত আফজাল খানের ছেলে মাসুদ পারভেজ খান তার প্রার্থিতা থেকে সরে দাঁড়াবেন বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে।’ 

আগামী ২৬ মে নির্বাচন কমিশনের পূর্বনির্ধারিত প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। 

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের বিষয়ে নাছিম বলেন, ‘কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচন দৃষ্টান্তকারী নির্বাচন হবে। সেখানে আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে নৌকার প্রার্থীকে বিজয়ী করবে বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।’

গত ১৭ মে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে (কুসিক) মনোনয়নপত্র জমা দেন কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য আঞ্জুম সুলতানা সীমার ভাই মাসুদ পারভেজ খান ইমরান।

মাসুদ পারভেজ খান ইমরান আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য ও দলের প্রবীণ নেতা প্রয়াত অধ্যক্ষ আফজল খানের ছেলে।  

এর চেয়েও বড় তথ্য, কুসিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়া মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরফানুল হক রিফাতের সঙ্গে তার বোন সীমার সম্পর্ক দা-কুমড়ো। রিফাত কুমিল্লা সদর আসনের এমপি ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজী আ.ক.ম বাহাউদ্দিনের অনুসারী।

স্বতন্ত্র পদে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর মাসুদ পারভেজ খান ইমরান সমকালকে বলেছিলেন, ‘আমি বিদ্রোহী প্রার্থী না। স্বতন্ত্র পদে নির্বাচনে মাঠে থাকবো। আমার অনেক নেতাকর্মী, অনুসারী ও সাধারণ জনগণ চাচ্ছে আমি নির্বাচনে থাকি। তাদের অনুরোধে নির্বাচন করতে হচ্ছে।’ 

তার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদেরও মধ্যেও বিভক্তি দেখা দেয়। পরে সঙ্কট সমাধানে কেন্দ্রকে উদ্যোগ নিতে হয়।