ফরিদপুরে ম্যাটস তৈরির কারখানার এক নারী  শ্রমিক ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। ৩৫ বছর বয়সী ওই নারী বর্তমানে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকের কলেজ হাসপাতাল সার্জারি-৩ ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ফরিদপুর কোতোয়ালি থানাকে অবগত করেছে।

গত সোমবার বিকেল ৫টা থেকে রাত ১১টার মধ্যে কোনো একসময় এ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। ওই নারী ফরিদপুর সদরের বাহিরদিয়ায় এলাকার একটি ম্যাটস (পাপোস) তৈরি কারখানায় কাজ করেন। সোমবার বিকেল ৫টার দিকে তিনি কারখানা থেকে বের হয়ে রাতে বাড়িতে ফিরে যাননি।

২০১৩ সালে স্বামী পরিত্যক্তা ওই নারী ফরিদপুর সদরে একটি মহল্লায় বাবার পরিবারে বসবাস করেন। ওই নারী দুই ভাই ও চার বোন। ওই নারীর একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।

ওই নারীর বোন জানান, সোমবার রাত ১১টার দিকে জামাল মুন্সী নামের একজন অটোচালক তাকে ফোন করে জানান, মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে তার বোন বর্তমানে ফরিদপুর মেডিকেলে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পরে তিনি গিয়ে তার বোনকে সার্জারি  ওয়ার্ডের মেঝেতে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় দেখতে পান।

ওই ওয়ার্ডের স্টাফ নার্স সন্ধ্যা রানী বাড়ই জানান, ওই নারীকে যে হাসপাতালে ভর্তি করে যান তিনি ভুল তথ্য দিয়ে ভর্তি করান। বলা হয়েছিল তার মাথায় আঘাত রয়েছে। ওই নারীর মাথায় আঘাত ছিল ঠিকই, কিন্তু তার চেয়ে বড় সমস্যা হলো তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে। এ বিষয়টি মঙ্গলবার দুপুরে হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক দীপক সাহাকে জানানো হয়েছে।

দীপক সাহা জানান, ধর্ষণের ঘটনাটি জানার পর নিয়ম অনুযায়ী রোগীকে স্বাস্থ্য সেবা দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় জানানো হয়েছে।

ফরিদপুরের  অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সুমন রঞ্জন সরকার বলেন, হাসপাতাল থেকে এ খবর শোনার পর পুলিশের একটি দলকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ সদস্যরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছেন।

ওই নারী মাসিক সাড়ে ৪ হাজার টাকার বিনিময়ে ওই ম্যাটস তৈরির একটি কারখানায় কাজ করেন। ওই কারখানার মালিক জানান, তার ফ্যাক্টরিতে ১৫ জন শ্রমিক কাজ করেন, তারা সবাই দুস্থ ও অসহায় নারী। তিনি বলেন, ওই নারী শ্রমিকের ধর্ষণের সাথে যারা জড়িত তাদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।