পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় কিস্তির ১০ হাজার ৬০০ টাকা পরিশোধ না করায় তসিবুল শাওন নামের ৯ বছরের এক বাক প্রতিবন্ধী শিশুকে অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার সকালে পৌর শহরের ৮নং ওয়ার্ড সবুজ নগরে এ ঘটনা ঘটে।

পরবর্তীতে ওই শিশুর মা তাসলিমা বেগম জাতীয় জরুরী সেবা ৯৯৯-এ ফোন দিলে পুলিশ গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে। এসময় পুলিশ ওই শিশুকে অপহরণকারী হনুফা বেগমকে আটক করে।

থানা ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি প্রাইম বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন নামে একটি স্থানীয় এনজিও থেকে লোন ছাড় করান হনুফা বেগম। এরপরে পৌর শহরের সবুজ নগরের বাসিন্দা ও ডাক বিভাগের রানার সিরাজুল ইসলামকে লোনটি পাইয়ে দেন হনুফা। তিনি সম্পর্কে সিরাজুলের আপন ভাগ্নে কসাই জাহাঙ্গীরের স্ত্রী। ওই লোনের কিস্তিবাবদ সিরাজুলের কাছে ১০ হাজার ৬০০ টাকা পাবেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে তার মামা শ্বশুর কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে না পারায় বুধবার সকাল পৌনে ৯টার দিকে সিরাজুলের ছেলে শাওনকে রাস্তা থেকে তুলে নেন হনুফা।

এসময় শাওনের চিৎকার শুনে জাহাঙ্গীরের ছোট বোন সুরাতন (৪৫) বিষয়টি শাওনের মা তাসলিমাকে জানায়। তাসলিমা ঘটনাস্থলে এসে তার ছেলেকে উদ্ধারের চেষ্ঠা করে ব্যর্থ হয়। পরে শিশুটির মা নিরুপয় হয়ে ছেলে উদ্ধারের জন্য ৯৯৯ নম্বরে ফোন দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ এসে শিশুটিকে তালাবদ্ধ ঘর থেকে উদ্ধার করে।

হনুফা জানান, তার মামা শ্বশুর সিরাজকে এনজিও থেকে নিজের নামে লোন এনে দিয়েছেন তিনি। কিন্তু কিস্তির পাওনা টাকা চাইতে গেলেই তাকে গালমন্দ করতেন সিরাজ। এজন্য পাওনা টাকা আদায় করার জন্য তার ছেলেকে আটক করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে সিরাজুল ইসলাম বলেন, ভাগ্নে বউ হনুফা আমার কাছে কিস্তির ১০ হাজার ৬০০ টাকা পাবে। কিন্তু যোগাড় করতে না পারায় টাকা দিতে পারিনি।

মঠবাড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ নুরুল ইসলাম বাদল বলেন, পাওনা টাকা নিয়ে আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যে এমন ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়েই প্রতিবন্ধী শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং ওই নারীকে আটক করা হয়েছে। তবে শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। লিখিত পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।