চট্টগ্রামের পটিয়ায় বিদ্যালয় থেকে ফেরার পথে আকলিমা আকতার নামে এক স্কুলছাত্রীর পথরোধ করে ধারালো ছুরি দিয়ে রক্তাক্ত করেছে সিএনজি অটোরিকশা চালক।  বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার আশিয়া ইউনিয়নের বাংলাবাজার এলাকার আশিয়া প্রাইমারি স্কুলের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

আকলিমা উপজেলার আশিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী। বর্তমানে সে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সকালে এসএসসি পরীক্ষার বিশেষ কোচিং শেষে বিদ্যালয় থেকে আকলিমা বাড়ি ফিরছিল। তার সঙ্গে আরও তিন সহপাঠী ছিল। তারা বাড়ির কাছাকাছি আশিয়া প্রাইমারি স্কুলের সামনে পৌঁছলে একটি সিএনজি অটোরিকশা তাদের পথরোধ করে। এসময় সিএনজি চালক ছাত্রীদের কাছে আকলিমা কে জানতে চায়? এরপরই ওই সিএনজি চালক ধারালো ছুরি বের করে আকলিমার হাতে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান। এসময় চালকের মুখে মাস্ক এবং চোখে কালো চশমা ছিল। পরে ওই ছাত্রীকে স্থানীয়দের সহযোগিতায় পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন।

আহত এসএসসি পরীক্ষার্থীর মা হালিমা বেগম জানান, মেয়ে আহত হওয়ার খবর পেয়ে তারা গিয়ে দেখেন আকলিমার হাত দিয়ে রক্ত ঝরছে। পরে তারা তাকে পটিয়া হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখান থেকে রেফার্ড করায় চমেক হাসপাতালে নিয়ে যান।

তিনি আরও জানান,গত ৬ মাস ধরে বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র শহীদ তার মেয়েকে প্রায় সময় উত্যক্ত করে আসছিল। এ ব্যাপারে তিনি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছিলেন। পরে প্রধান শিক্ষক শহীদের কাছ থেকে ভবিষ্যতে আর আকলিমাকে কোন ধরনের উত্যক্ত করবে না মর্মে একটি লিখিত মুচলেকা নেয়।

আশিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল জলিল বলে, একমাস আগে বিদ্যালয়ের এক ছাত্র ভুক্তভোগী ছাত্রীটিকে উত্যক্ত করায় আমরা ওই ছাত্রের কাছ থেকে একটি মুচলেকা নিয়েছিলাম। এখন কি ওই ছাত্রটি এ ঘটনা ঘটিয়েছে নাকি অন্য কোন ঘটনা আছে তাও বুঝতে পারছি না।  

পটিয়া থানার ওসি রেজাউল করিম মজুমদার সমকালকে জানান, ছাত্রীর অভিভাবক এজাহার দায়ের করেছে। এ ঘটনায় মামলার দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। সিএনজি চালককে আটকের জন্য অভিযান চলছে।