তাড়াশের মাঝিড়া গ্রামের কৃষক ফিরোজ হোসেন এ বছর সাড়ে ১০ বিঘা জমিতে বোরো আবাদ করেছিলেন। ফলনও হয়েছিল ভালো। কিন্তু ধান কাটার আগ মুহূর্তে কয়েক দিনের টানা বর্ষণ ও ঝড়-বাতাসে জমিতে পানি জমে পাকা ধান নুয়ে পড়েছে। শ্রমিকদের পেছনে ঘুরে ঘুরে মজুরি হিসেবে অর্ধেক ধান দিয়েই পরে সেগুলো কাটতে হয়েছে।

ফিরোজ জানান, বিগত বছরে ধান কাটা খরচ বাদে ২০০ মণ ধান গোলায় মজুত থাকত। কিন্তু এ বছর ৭০ থেকে ৮০ মণ ধান অবশিষ্ট রয়েছে। এ ছাড়া বিঘাপ্রতি আবাদ করতে খরচ হয়েছে ৬ হাজার থেকে ৭ হাজার টাকা। এ অবস্থায় হাটবাজারে দাম বেশি হলেও গোলায় যে ধান আছে তা বিক্রি করলেও উৎপাদন ব্যয় উঠবে না।

এ অবস্থা শুধু কৃষক ফিরোজেরই নয়, চলনবিল এলাকার হাজারো কৃষকের। তাদের অনেকেই জমির ধান নিয়ে বিপাকে পড়েছেন।

চলনবিল অঞ্চলের সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর, উল্লাপাড়া, তাড়াশ, রায়গঞ্জ; পাবনার ভাঙ্গুড়া, চাটমোহর, ফরিদপুর; নাটোরের গুরুদাসপুর, সিংড়া ও নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় চলতি বছর প্রায় ১ লাখ ৮৫ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ করা হয়েছিল। এসব এলাকার প্রায় ৮০ থেকে ৯০ ভাগ বোরো ধান কাটা শেষ হয়েছে। সাড়ে ৪০০ থেকে ৫০০ চাতালে চাল উৎপাদন শুরু হয়েছে। সেগুলো চাঁচকৈড়, রনবাঘা, মির্জাপুর, সলঙ্গা, গুল্টা, বিনসাড়া, বোয়ালিয়া, কাছিকাটা, সাইকোলা, চান্দাইকোনা, রানীরহাট, নওগাঁসহ ৫০ থেকে ৫৫টি পাইকারি ও খুচরা হাটবাজারে বিক্রি শুরু হয়েছে। সেই সঙ্গে চলতি সপ্তাহে বিলাঞ্চলের বিভিন্ন হাটবাজারে ধানের দাম রেকর্ড পরিমাণ বেড়েছে। চলনবিলের বিভিন্ন হাটবাজারে গত সপ্তাহে মিনিকেট প্রতি মণ ১০০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এখন বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৪০০ টাকায়। কাটারিভোগ ১ হাজার ৪৫০ টাকায়, ব্রি-২৮ ৬০০ টাকা, ব্রি-হীরা ৮৫০ টাকা, ব্রি-সুফলতা ১ হাজার টাকা, ১ হাজার ২৫০ টাকায় ব্রি-২৯, ব্রি-৯০ ১ হাজার ৬৮৫ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে।

নাটোরের সিংড়া উপজেলার চাঁচকৈর হাটে পাবনা থেকে আসা মহাজন মিজানুর রহমান বলেন, ১৫ দিনের ব্যবধানে চলনবিলের হাটবাজারে মোটা ধান মণপ্রতি ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা এবং চিকন ধানের দাম ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা বেড়েছে। তবে এর সুফল পাচ্ছেন না কৃষক। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, চলতি বছর চলনবিলের সব অঞ্চলেই বৈরী আবহাওয়ার কারণে ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গোলায় উৎপাদিত ধানের অর্ধেকও মজুত করতে পারেননি কৃষক। পাশাপাশি শ্রমিক সংকটে উচ্চমূল্যে ধান কাটতে বাধ্য হয়েছেন তারা।

তবে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লুৎফুন্নার লুনা বলছেন, চলনবিলের হাটবাজারে ধানের দাম ওঠানামা করে। তার পরও ধানের দাম বেশি হওয়ায় অনেক কৃষক লাভবান হবেন।