প্রস্তাবিত বৈষম্যবিরোধী আইনটি আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও যাচাই-বাছাই শেষে পাস করার দাবি জানানো হয়েছে। যেভাবে আইনটির খসড়া তৈরি করা হয়েছে, এটা কার্যকর হলে মানুষের কোনো উপকারে আসবে না। সে ক্ষেত্রে চূড়ান্তের আগে প্রস্তাবিত আইনটি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে ফের আলোচনা হওয়া উচিত।

বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ক্রিশ্চিয়ান এইডের সহায়তায় বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট), নাগরিক উদ্যোগ এবং বাংলাদেশ দলিত ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠী অধিকার আন্দোলনের (বিডিইআরএম) যৌথ আয়োজনে প্রস্তাবিত বৈষম্যবিরোধী আইন (খসড়া) পর্যালোচনা ও সুপারিশ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

গত ৫ এপ্রিল আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বৈষম্যবিরোধী আইন-২০২২-এর একটি খসড়া জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করেন। এটি এখন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির কাছে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য রয়েছে।

রাজধানীর সিরডাপ আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম, ব্লাস্টের নির্বাহী পরিচালক ব্যারিস্টার সারা হোসেন, আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং, ঢাবির অধ্যাপক মোহাম্মদ গোলাম সারোয়ার, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের উপপরিচালক সুস্মিতা পাইক, আইনজীবী এসএম রেজাউল করিম, ক্রিশ্চিয়ান এইডের প্রোগ্রাম ম্যানেজার ফারহানা আফরোজ, বিডিইআরএমের সাধারণ সম্পাদক উত্তম কুমার ভক্ত, ডব্লিউডিডিএফের নির্বাহী পরিচালক আশরাফুন্নাহার মিষ্টি এবং সম্পর্কের নয়া সেতুর নির্বাহী পরিচালক জয়া সিকদার। সভায় সভাপতিত্ব করেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেড. আই. খান পান্না। সভায় প্রস্তাবিত বৈষম্যবিরোধী আইন-২০২২ (খসড়া)-এর পর্যালোচনা এবং সুপারিশমালা উপস্থাপন করেন অ্যাডভোকেট আয়শা আক্তার ও ইসতিয়াক মাহমুদ।

সভাপতির বক্তব্যে আইনজীবী জেড. আই. খান পান্না বলেন, প্রস্তাবিত বৈষম্যবিরোধী আইন (খসড়া) বাস্তবায়ন করার আগে মানুষের প্রতি মানুষের আবেগ তৈরি হওয়া প্রয়োজন। মনে রাখতে হবে, দেশের সবচেয়ে বড় আইন হলো সংবিধান। সংবিধানের কোথাও কারও প্রতি বৈষম্যের কথা বলা নেই। তাই সংবিধানকে মেনে আইনের বাস্তবায়ন ঘটাতে হবে। তিনি বলেন, দেশের মূল সমস্যা হচ্ছে আর্থিক বৈষম্য। যে সমাজে বৈষম্য বিদ্যমান, সেটা ঘুণে ধরা সমাজ। এভাবে একটি সমাজ চলতে পারে না। এটা বদলাতে হবে। প্রস্তাবিত আইনে যে বৈষম্য আছে তা দূর করতে হবে।

প্রস্তাবিত সুপারিশমালায় এ আইনের নাম 'বৈষম্যবিরোধী'-এর বদলে 'বৈষম্য বিলোপ বা নিরসন আইন' রাখা বেশি যুক্তিযুক্ত বলে উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া আইনটি কার্যকর হওয়ার তারিখ, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর সংজ্ঞা বিশেষ করে 'দলিত জনগোষ্ঠী', 'অস্পৃশ্যতা' এবং 'তৃতীয় লিঙ্গ' স্থানে 'লিঙ্গ বৈচিত্র্যময় জনগোষ্ঠী' উল্লেখ করার কথা সুপারিশে বলা হয়।

বিষয় : বৈষম্যবিরোধী আইন আইনটির খসড়া

মন্তব্য করুন