রাজধানীর চকবাজারের ফেন্সি মার্কেটে আলাউদ্দিন ভূঁইয়া (৫৫) নামে এক নিরাপত্তাকর্মীকে শ্বাসরোধে ও ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। 

শুক্রবার সন্ধ্যায় তার রক্তাক্ত মরদেহ পাওয়া যায়। পুলিশের ধারণা, বৃহস্পতিবার রাতে তাকে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। হত্যার কারণ সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিরাপত্তাকর্মীদের মধ্যকার কোনো বিরোধে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। আবার নিহতের স্বজনের ভাষ্য, ওই মার্কেটের মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্ব চলছিল। এর জেরে তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।

চকবাজার থানার ওসি এম এ কাইয়ূম সমকালকে বলেন, গামছা দিয়ে শ্বাসরোধ করার পর ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে জখম করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে শফিক ভূঁইয়া বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছেন। হত্যার সম্ভাব্য কারণ অনুসন্ধানের চেষ্টা করছে পুলিশ। এ ঘটনায় এখনও কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়নি।

এদিকে ওসি স্বীকার না করলেও পুলিশের দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, এরইমধ্যে হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। সন্দেহভাজন কয়েকজনকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। রোববার এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হতে পারে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, দীর্ঘ ২০ বছর ধরে ফেন্সি মার্কেটে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করে আসছিলেন আলাউদ্দিন। তার বাড়ি শরীয়তপুরের জাজিরায়। বৃহস্পতিবার মার্কেটের উদ্দেশে বেরিয়ে তিনি আর বাসায় ফেরেননি। শুক্রবার তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরে সেদিন সন্ধ্যায় মার্কেটের তৃতীয় তলায় মেলে তার মরদেহ। 

পুলিশ বলছে, বৃহস্পতিবার রাতের কোনো এক সময়ে তাকে হত্যা করা হলেও শুক্রবার মার্কেট বন্ধ থাকায় সারাদিন কেউ কিছু বুঝতে পারেননি। তবে তার ফোন বন্ধ পেয়ে ছেলে চলে আসেন মার্কেটে। তখন তার মৃতদেহ খুঁজে পাওয়া যায়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পাঠানো হয় স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড হাসপাতাল) মর্গে।

নিহতের ছেলে শফিক ভূঁইয়া সাংবাদিকদের জানান, ফেন্সি মার্কেটের মালিকানা নিয়ে কিছু ঝামেলা চলছিল। এই পরিস্থিতিতে মাসখানেক আগে আলাউদ্দিন চাকরি ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে চলে যান। এরপর চারদিন আগে তাকে ডেকে নিয়ে আবারও কাজে বহাল করা হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চকবাজার থানার এসআই কৃষ্ণপদ মজুমদার সমকালকে বলেন, মার্কেটের দু'টি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। কিন্তু ছবি ঝাপসা হওয়ায় সুনির্দিষ্ট কিছু পাওয়া যায়নি। অন্য নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।