নওগাঁর পোরশা উপজেলায় ফাতেমা খাতুন (২৬) নামে এক গৃহবধূকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। রোববার দুপুরে উপজেলার তেতুলিয়া ইউনিয়নের শাহাপুকুর দিঘীরপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় গৃহবধূর স্বামী মোস্তাফিজুর রহমান (২৯), তার বাবা আকবর আলী (৬৫) ও মা জুলেখা বেগমকে (৫৫) আটক করেছে পুলিশ। এছাড়া বিকেলেই গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য শহিদুল ইসলাম বলেন, গৃহবধূর স্বামী চার বছর ধরে ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। আর ফাতেমা আট বছরের ছেলে ও তিন বছরের মেয়েকে নিয়ে শ্বশুর বাড়িতেই কোনোভাবে দিন যাপন করছিলেন। এছাড়া মোস্তাফিজুর স্ত্রী-সন্তানের কোনো ভরণপোষণও দিতেন না। হঠাৎ করে রোববার সকাল ৮টার দিকে তিনি ঢাকা থেকে বাড়িতে আসেন।

শহিদুল বলেন, ধারণা করা হচ্ছে, রোববার দুপুরের দিকে শয়ন ঘরের ভেতরে স্বামী-স্ত্রীর কথা-বার্তার একপর্যায়ে ফাতেমাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। কারণ মোস্তাফিজুর রহমানের শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তের দাগ দেখতে পাওয়া গেছে। পরে তার গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঘরের বেড়ার খুঁটির সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রচার করেন।

গৃহবধূর বাবা রবিউল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, মোস্তাফিজুর ঢাকায় থাকলেও আমার মেয়ে ও নাতিদের কোনো খরচ দিতেন না। ফাতেমার শ্বশুর-শাশুড়ি কোনোভাবে সংসার চালাতেন। সন্তানদের মুখের দিকে চেয়ে আমার মেয়েও আমাদের কাছে আসতে চাইত না। বাড়ি থেকে ‘জঞ্জাল’ সরানোর জন্য মোস্তাফিজুর আমার মেয়েকে শ্বাসরোধে হত্যা করেছেন। আমরা এর ন্যায় বিচার চাই।

পোরশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহুরুল হক বলেন, ফাতেমার মরদেহ যে অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে, তাতে তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে মনে হচ্ছে না। গলাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহৃ রয়েছে। এ কারণেই তার স্বামী মোস্তাফিজুরসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।