দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার আমেনাবাকী রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের চার ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে। এ অবস্থায় অধ্যক্ষ মিজানুর রহমানকে ছুটি দিয়েছে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি।

অধ্যক্ষকে নির্দোষ দাবি করে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ ও ভাঙচুর করেছে কিছু শিক্ষার্থী। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শুক্রবার পর্যন্ত প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের এই ঘটনার সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে গত রোববার বিকেলে শিক্ষকদের তোপের মুখে পড়েছেন সাংবাদিকরা।

জানা গেছে, প্রায় ২০ দিন আগে বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির এক ছাত্রী তার বাবা-মাকে জানায়, অধ্যক্ষ তার গায়ে হাত দিয়েছেন। এ ঘটনা জানার পর মেয়েটির চাচা বিষয়টি বিদ্যালয় পরিচালনার প্রতিষ্ঠান এবি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ডা. আমজাদ হোসেনকে জানান। এরই মধ্যে অধ্যক্ষ মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে আরও তিন ছাত্রী যৌন হয়রানির অভিযোগ তোলে। পরে তাৎক্ষণিকভাবে অধ্যক্ষকে ছুটি দেওয়া হয়।

গত শনিবার রাতে বিদ্যালয়ের আবাসিক শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষকে স্বপদে বহালের দাবিতে বিক্ষোভ করে। এ সময় তারা বিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ফুলের টব, গাছপালা, ভবনের জানালাসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুর করে। পরে পুলিশ ও প্রশাসন ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরদিন রোববার সকালেও শিক্ষার্থীরা ফের বিক্ষোভের চেষ্টা করলে শুক্রবার পর্যন্ত বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

ঘটনার বিস্তারিত জানতে রোববার বিকেলে ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গেলে সাংবাদিকদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়। পরে ভেতরে প্রবেশ করলে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক আব্দুর রউফ, তোহাসহ বেশ কয়েকজন সাংবাদিকদের ভেতরে প্রবেশ করা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। সাংবাদিকরা ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে অপেক্ষা করতে বলা হয়। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করলেও প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল কেউ আর কথা বলেননি। সাংবাদিকরা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলতে গেলেও বাধা দেওয়া হয়।

চিরিরবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বজলুর রশিদ বলেন, কম্পিউটার ল্যাবে অধ্যক্ষ একজন শিক্ষার্থীর গায়ে হাত দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ওই ছাত্রীসহ চার শিক্ষার্থী অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করেছে। বিদ্যালয়ের আবাসিক শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষকে নির্দোষ দাবি করে স্বপদে বহাল রাখার দাবি তুলেছে। যৌন হয়রানির ঘটনায় এখনও কেউ লিখিত কোনো অভিযোগ দেয়নি।

বিদ্যালয়টির পরিচালনা কমিটির সদস্য এরশাদ আলী বলেন, অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠায় অধিকতর তদন্তের জন্য তাকে ছুটি দেওয়া হয়েছে। অধ্যক্ষকে নির্দোষ দাবি করে কিছু শিক্ষার্থী একটু উত্তেজিত হয়েছিল। এখন শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দেওয়ার বিষয়টিও আমাদের। এ জন্য শুক্রবার পর্যন্ত বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

এবি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ডা. আমজাদ হোসেন বলেন, এই প্রতিষ্ঠানটির পেছনে অধ্যক্ষ মিজানুর রহমানের অনেক অবদান আছে। তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা স্পর্শকাতর। আমরা বিষয়টি অধিকতর তদন্ত করে দেখছি।

এ ব্যাপারে অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা। বিদ্যালয়ে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা আছে। চাইলেই বিষয়টি দেখা যেতে পারে। তিনি দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। কিছু ব্যক্তি তাঁকে প্রতিষ্ঠান থেকে সরিয়ে দিতে চায়।