দিনে কেউ সিএনজি অটোরিকশার চালক, কেউ আবার রঙমিস্ত্রি। তবে রাত হলেই বদলে যায় তাদের পরিচয়। তারা হয়ে ওঠে ভয়ংকর ডাকাত। ঢাকা ও আশপাশের এলাকার আতঙ্ক এই ডাকাতদলের সর্দার সাদ্দাম মাঝিকে অবশেষে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) তেজগাঁও বিভাগের একটি দল সোমবার মধ্যরাতে রাজধানীর ঢাকা উদ্যান এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তার কাছ থেকে ডাকাতিতে ব্যবহৃত একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে।

ডিবির তেজগাঁও জোনাল টিমের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার শাহাদাত হোসেন সুমা সমকালকে বলেন, সাম্প্রতিককালের বেশ কিছু ডাকাতির ঘটনায় সাদ্দামের দল জড়িত। এর আগে তার দলের ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, পাচ-দশ হাজার টাকার চুক্তিতে তারা ডাকাতি করে। তবে ডাকাতির পুরো বিষয়টির সমন্বয় করে দলনেতা সাদ্দাম। ফলে অন্যরা বিস্তারিত কিছু জানাতে পারেনি। এ কারণে তখন থেকেই সাদ্দামকে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা শুরু হয়। একপর্যায়ে তার অবস্থান জানতে পারে ডিবি।

ডিবি সূত্র জানায়, ঢাকার কেরানীগঞ্জ, ধামরাই ও মুন্সীগঞ্জে বেশ কিছু দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটিয়েছে এই চক্রটি। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি ডাকাতি হয়েছে কেরানীগঞ্জে। চক্রের হোতা সাদ্দাম রাজধানীর হাজারীবাগে থাকে। সাদামাটা জীবনযাপন করা এই যুবক যে ডাকাতিতে জড়িত তা পরিচিত অনেকে বিশ্বাস করতে পারেন না। সে ধার্মিক হিসেবে পরিচিত। নিয়মিত নামাজ পড়ে। অথচ সাম্প্রতিক ডাকাতির ঘটনায় ধরা পড়া ডাকাতরা সবাই সর্দার হিসেবে তার নাম বলেছে। 

সোমবারের অভিযানে গ্রেপ্তারের সময় সাদ্দামের সঙ্গে মো. মনির নামে এক সহযোগী ছিল। সে পুলিশের উপস্থিতি বুঝতে পেরে পালিয়ে যায়। তাকেও আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে ডিবি।

এদিকে সাদ্দাম এই ডাকাত দলটির দৃশ্যমান সর্দার হলেও তার পেছনে কেউ একজন কলকাঠি নাড়ে বলে ধারণা করছেন গোয়েন্দারা। সাদ্দামকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে নেপথ্যের সেই অপরাধীর ব্যাপারে তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।