চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার বিএম কনটেইনার ডিপোতে অগ্নিকাণ্ড এবং ওই ঘটনার আগে ও পরে আরও কয়েকটি অগ্নিদুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে বিভিন্ন স্থাপনার নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। এ প্রেক্ষিতে প্রাথমিকভাবে রাজধানীর সব বাণিজ্যিক ভবন এবং মার্কেটের নিরাপত্তা মান তদারকি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

এ রকম এক হাজার ৭২টি ভবনের পরিদর্শন কার্যক্রম শুরু হচ্ছে আগামী সপ্তাহে। ৮২টি প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হবে পরিদর্শনে। ভবন নির্মাণ, অগ্নিনিরাপত্তা ও অন্যান্য সেবাদাতা ১১টি কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে এ পরিদর্শন ও পর্যবেক্ষণ টিম গঠন করা হয়েছে।

জানা গেছে, বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) পরিদর্শন কার্যক্রমে প্রশিক্ষণ সহায়তা দিচ্ছে। মূল পরিদর্শন কার্যক্রমে নেতৃত্ব দিচ্ছে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর (ডাইফি)। জানতে চাইলে ডাইফির মহাপরিদর্শক মো. নাসির উদ্দিন আহমেদ বুধবার সমকালকে বলেন, পরিদর্শন কর্মীদের প্রশিক্ষণসহ সব ধরনের কার্যক্রম প্রায় প্রস্তুত। আগামী সপ্তাহে সরেজমিনে পরিদর্শন শুরু হবে। যত দ্রুত সম্ভব পরিদর্শন ফল সংগ্রহের কাজ শেষ করতে চান তাঁরা।

সূত্র জানিয়েছে, ডাইফি, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর- এ তিন সংস্থার কাছে সংরক্ষিত তথ্যের ভিত্তিতে এক হাজার ৭২টি ভবনের তালিকা করা হয়েছে। তবে অতিরিক্ত বাণিজ্যিক ভবন কিংবা মার্কেট সরেজমিন পাওয়া গেলে সেগুলোও পরিদর্শন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ১১ কর্তৃপক্ষের সমন্বয় কমিটিতে রয়েছে ডাইফি, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর, পরিবেশ অধিদপ্তর, গণপূর্ত অধিদপ্তর, স্থাপত্য অধিদপ্তর, তিতাস গ্যাস, বিস্ম্ফোরক অধিদপ্তর, প্রধান বিদ্যুৎ পরিদর্শকের অধিদপ্তর, এফবিসিসিআই, ডেসকো, প্রধান বয়লার পরিদর্শকের কার্যালয়, রাজউক, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন।

গত বছর নারায়ণগঞ্জের হাসেম ফুড কারখানায় অগ্নিদুর্ঘটনায় ৫২ শ্রমিকের মৃত্যুর পর সারাদেশের ৫ হাজার ২০৬টি কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ওই কার্যক্রম এখনও চলছে।

বিষয় : বাণিজ্যিক ভবন নিরাপত্তা মান তদারকি

মন্তব্য করুন