রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকার বাসা থেকে নিজের গাড়িতে মিরপুরে অফিসে যাওয়ার সময় চালকের হাতে অপহরণের শিকার হচ্ছিলেন এক নারী। পথে গাড়ির তেল ফুরিয়ে যাওয়ায় মুক্তি পান তিনি। চালক রনি পালিয়েছে। তার সহযোগী কাসেমকে গ্রেপ্তার করেছে শাহবাগ থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানিয়েছে, শাম্মী আক্তার (৪০) নামে ওই নারী মিরপুর ডিওএইচএস এলাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। বাসা থেকে প্রাইভেটকারে যাতায়াত করেন। 

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় যখন নিউমার্কেট এলাকার বাসা থেকে বের হন, তখন তার চালক রনি ছিল না। তাকে না পেয়ে নিজেই গাড়ি চালিয়ে বের হচ্ছিলেন। এ সময় রনি চলে আসায় তাকে গাড়ি চালাতে দিয়ে তিনি পেছনের সিটে বসেন। 

কিছুদূর যাওয়ার পর রনি গাড়ি থামিয়ে একটি সরু গলি থেকে কাসেম নামে একজনকে ওঠায়। ওই ব্যক্তি কে জানতে চাইলে রনি তাকে বলে, তার পরিচিত। নারীর পাশেই বসে কাসেম। কয়েক মিনিটের মধ্যে কাসেম ব্লেড বের করে গলা কেটে ফেলার হুমকি দেয় এবং চালক রনি রেঞ্জ বের করে নারীকে আঘাত করে। 

তাকে ওষুধ ও পানি খাওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়। কিন্তু এটি ঘুম বা নেশাজাতীয় কিছু হতে পারে ভেবে তিনি খাননি। গাড়িতে আটকে রেখে অজানা গন্তব্যে নেওয়ার উদ্দেশে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ঘোরে তারা। 

দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার জগন্নাথ হলের সামনে এলে গাড়ির তেল ফুরিয়ে যায়। বন্ধ হয়ে যায় গাড়ি। কাসেমকে রেখে রনি তেল আনতে যায়। এ সময় ওই নারী কৌশলে কাসেমকে বলেন, তিনি চিৎকার করবেন না, পালাবেনও না। গরম লাগছে। গাড়ির এসিটা চালাতে বলেন। কাসেম সামনের সিটের দিকে ঝুঁকলে তিনি গ্লাস খুলে চিৎকার করেন। 

এ সময় আশপাশের লোকজন এসে তাকে উদ্ধার এবং কাসেমকে মারধর করে। পুলিশের কাছে তুলে দেওয়া হয় কাসেমকে। এ দিকে রনি আর তেল নিয়ে আসেনি। ভুক্তভোগী নারী আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। কেন তাকে অপহরণ করা হচ্ছিল, এর কিছুই জানেন না তিনি।

শাহবাগ থানার ওসি মওদুত হাওলাদার সমকালকে বলেন, কর্মজীবী নারীকে কেন অপহরণ করা হচ্ছিল সে ব্যাপারে আটক কাসেম কিছু জানায়নি। রনিকে গ্রেপ্তার করা গেলে জানা যাবে। কাসেম, রনিসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে অপহরণ মামলা হয়েছে।

জানা যায়, শাম্মী আক্তারের স্বামীর সঙ্গে দুই বছর আগে ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে। ৯ বছরের ছেলেকে নিয়ে তিনি নিউমার্কেট এলাকায় বসবাস করেন। সপ্তাহখানেক আগে তিনি রনিকে চালক হিসেবে নিয়োগ দেন। তাকে কেন অপহরণ করা হচ্ছিল সে বিষয়ে রনি তাকে গাড়িতে একেক সময় একেক তথ্য দেয়। গাড়ি যখন চলছিল, তখন তিনি একবার মাথা উঁচু করে গ্লাস দিয়ে বনানী লেখা দেখতে পান। তাতে ধারণা করা হচ্ছে, গাড়িটি বনানীতেও গিয়েছিল।